দেবরীনা মণ্ডল সাহা,কলকাতা :- কলকাতার শিখা ইন-এর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন আরও অনেকে। তাঁদেরই মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি সোমাইয়া আখতার ও রেজাউল ইসলাম। কলকাতায় বেড়াতে এসে রাতের অন্ধকারে ভয়াবহ আগুনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁদের। শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দিয়ে প্রাণে বাঁচেন দু’জন।
রাত প্রায় ১টা ৫০ মিনিট। হঠাৎ ঘরের দরজায় জোরে ধাক্কার শব্দে ঘুম ভেঙে যায় রেজাউলের। সোমাইয়া তখনও জেগে ছিলেন। দু’জনে দরজা খুলতেই দেখেন, বারান্দা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। চারপাশে চিৎকার আর আতঙ্ক। সেই পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রাখেন রেজাউল। সিঁড়ি দিয়ে বেরনোর চেষ্টা করলে বিপদ আরও বাড়তে পারে বুঝে দ্রুত অন্য পথ খোঁজেন তিনি।
এর পরেই স্ত্রীকে নিয়ে জানলার কাছে চলে যান রেজাউল। জানলা খুলে দু’জনে নেমে পড়েন কার্নিসে। তিনতলার সেই সরু কার্নিসেই আশ্রয় নিয়ে শুরু হয় প্রাণ বাঁচানোর লড়াই। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন যাতে তাঁদের দেখতে পান, তার জন্য চিৎকারের পাশাপাশি মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে সাহায্যের সংকেত দিতে থাকেন তাঁরা।
সোমাইয়া জানান, প্রায় আধ ঘণ্টা কার্নিসের উপর দাঁড়িয়েই তাঁরা সাহায্যের অপেক্ষা করেছিলেন। নিচ দিয়ে যাঁরা যাচ্ছিলেন, তাঁদের উদ্দেশে চিৎকার করে নিজেদের বিপদের কথা জানান। কিন্তু তিনতলার কার্নিস থেকে রাস্তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। ফলে মোবাইলের আলোই হয়ে ওঠে তাঁদের ভরসা।শেষ পর্যন্ত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলকর্মীরা। মইয়ের সাহায্যে তিনতলার কার্নিস থেকে সোমাইয়া ও রেজাউলকে নিরাপদে নামিয়ে আনেন তাঁরা। প্রাণে বাঁচলেও সেই ভয়াবহ রাতের আতঙ্ক এখনও কাটেনি দম্পতির। দরজা দিয়ে বেরোতে গেলে কী হত, কিংবা জানলা দিয়ে কার্নিসে নামার পথও যদি বন্ধ থাকত—সেই কথা ভাবলেই এখনও শিউরে উঠছেন তাঁরা।
সোমাইয়া-রেজাউলের বেঁচে ফেরার ঘটনায় আরও একবার স্পষ্ট, বিপদের মুহূর্তে আতঙ্কিত না হয়ে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়াই কখনও কখনও জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal