প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-মাসে মোটা অঙ্কের বেতন, তার সঙ্গে সেশন ফি-সহ নানা খরচ। অথচ স্কুলের ভিতরেই নিরাপত্তার প্রশ্নে উঠছে গুরুতর অভিযোগ। কলকাতার একটি নামী বেসরকারি স্কুলের শৌচালয়ে সাপের ছোবল খেল তৃতীয় শ্রেণির এক পড়ুয়া। অভিযোগ, ঘটনার পরেও যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত পড়ুয়ার পরিবার-সহ অন্যান্য অভিভাবকরাও।মঙ্গলবার দুপুর ১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। ক্লাস চলাকালীন শৌচাগারে গিয়েছিল বছর আটের ওই পড়ুয়া। সেখানেই তাকে সাপে ছোবল দেয় বলে জানা গিয়েছে। তবে ঘটনার পর সে শিক্ষককে কিছু জানায়নি। এমনকি ক্লাসও করে এবং স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফিরে যায়।সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানায় পড়ুয়ার পরিবার। ততক্ষণে তাকে বাইপাসের ধারে একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছন স্কুলের প্রিন্সিপাল সীমা সাপ্রু। তিনি জানান, রাত পর্যন্ত হাসপাতালে থেকে পড়ুয়ার শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন।প্রিন্সিপালের বক্তব্য, ‘‘ওই ছাত্র আমাদের কাউকে কিছুই জানায়নি। শুধু এক বন্ধুকে বিষয়টি জানিয়েছিল। পরে সেই বন্ধু বাড়িতে ঘটনাটি জানায়। তার পর বন্ধুর বাবা ওই ছাত্রের মাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। আমরা জানতে পারার পর থেকেই পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।’’স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সাপটি নির্বিষ ছিল। বর্তমানে পড়ুয়ার অবস্থা স্থিতিশীল বলেও জানিয়েছেন প্রিন্সিপাল। তাঁর কথায়, পড়ুয়ার মোট আট বার রক্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা। এখনও পর্যন্ত ছয় বার পরীক্ষা হয়েছে। বুধবার বিকেলের মধ্যেই ফের হাসপাতালে গিয়ে পড়ুয়ার সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।
তবে ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে স্কুলের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে। অভিভাবকদের বক্তব্য, বেসরকারি স্কুলে সন্তানকে পড়াতে মাসে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করেন তাঁরা। তার সঙ্গে রয়েছে সেশন ফি-সহ একাধিক খরচ। সেই স্কুলের শৌচালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কীভাবে সাপ ঢুকে পড়ল, তা নিয়েই এখন উদ্বেগ বাড়ছে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলেই দাবি অভিভাবকদের।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal