Breaking News

‘দেহদানের প্রয়োজন নেই’ বলিনি! ব্রেন ডেথে অঙ্গদানের পক্ষে সওয়াল, বিতর্কের পর নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বতের

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- ব্রেন ডেথের ক্ষেত্রে মরণোত্তর দেহদানের পরিবর্তে অঙ্গদানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাই তিনি বলতে চেয়েছিলেন। দেহদানের কোনও প্রয়োজন নেই— এমন কথা তিনি বলেননি। সম্প্রতি দেহদান নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহে শনিবার যাদবপুরের কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে আয়োজিত প্লাস্টিক সার্জারি সংক্রান্ত এক সম্মেলনে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ব্রেন ডেথের ক্ষেত্রে অঙ্গদানের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তাঁর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির মস্তিষ্কের মৃত্যু ঘটলেও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা না করা পর্যন্ত অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সুযোগ থাকে। সেই পরিস্থিতিতে দেহদানের পরিবর্তে অঙ্গদান করাই বেশি জরুরি। তবে স্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে অঙ্গদানের সুযোগ কার্যত থাকে না। সেই সমস্ত ক্ষেত্রে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পড়াশোনা ও গবেষণার কাজে মরণোত্তর দেহদান গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানান তিনি।শারদ্বতের কথায়, “যাঁদের মস্তিষ্কের মৃত্যু অর্থাৎ ব্রেন ডেথ হয়েছে, কিন্তু মৃত বলে ঘোষণা করা হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে দেহদান না করে অঙ্গদান করাটাই জরুরি। আর যাঁরা স্বাভাবিকভাবে মারা গিয়েছেন, তাঁদের অঙ্গদানের কোনও মূল্য থাকে না। তাঁদের দেহ মেডিক্যাল পড়ুয়াদের পড়াশোনার কাজে দান করা যেতে পারে।”প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার নিউ টাউনে চক্ষুদান সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “দেহদান করে লাভ নেই। ওটা করবেন না প্লিজ।” পাশাপাশি কৃত্রিম প্রযুক্তির যুগে ময়নাতদন্ত এবং ব্যবচ্ছেদের প্রয়োজনীয়তা আমেরিকায় কমে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর মৃত্যুর পর তাঁর দেহদানের প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ব্রেন ডেথের সময় অঙ্গদান করা হলে তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আরও বেশি কার্যকর হত।
এরপরই চিকিৎসকমহল ও সমাজকর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিজ্ঞান মঞ্চের তরফেও দাবি করা হয়, এআই বা থ্রি-ডি ইমেজিং কোনওভাবেই হাতে-কলমে অ্যানাটমি শেখার বিকল্প হতে পারে না। মেডিক্যাল পড়ুয়াদের জন্য মানুষের শরীরের গঠন সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং ব্যবচ্ছেদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার ক্ষেত্রেও দেহ সংরক্ষণ ও কঙ্কাল তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে শনিবার নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বলেছিলাম, যাঁদের ব্রেন ডেথ হয়েছে, কিন্তু মৃত বলে ঘোষণা করা হয়নি, তাঁদের দেহদান করার থাকলে আর করবেন না। সেক্ষেত্রে অঙ্গদান করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “ব্রেন ডেথের সময় অঙ্গদানের কথা বলা হলে অনেকে বলেন, পুরো দেহটাই দান করার কথা রয়েছে। আমি বলতে চেয়েছি, ব্রেন ডেথের ক্ষেত্রে মরণোত্তর দেহদান নয়, অঙ্গদান জরুরি। যিনি মারা গিয়েছেন, তাঁর অঙ্গদানের কোনও মূল্য নেই। তাঁদের ক্ষেত্রে মেডিক্যাল পড়ুয়াদের পড়াশোনার জন্য দেহদান করা যেতে পারে।”স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই পার্থক্য সম্পর্কে সচেতন করতেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে বলেও দাবি করেন শারদ্বত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এই দুটি কথাই সচেতন করার জন্য বলা হয়েছিল। কোথাও হয়তো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। দেহদানের প্রয়োজন নেই, কোনও সময়ই বলা হয়নি।”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *