Breaking News

ডেঙ্গুর দাপট রুখতে পুরসভার ‘স্পেশাল ড্রাইভ’, এসপ্ল্যানেড থেকে অগ্নিমিত্রার নেতৃত্বে পুরনিগম-মেট্রোর যৌথ অভিযান!

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- বর্ষা নামতেই ফের বাড়ছে ডেঙ্গুর আশঙ্কা। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকার অভিযোগ উঠছে। আর সেই জমা জলই ডেঙ্গির মশার বংশবিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সুরক্ষায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান শুরু করল কলকাতা পুরসভা ও মেট্রো রেল। শনিবার এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন থেকে যৌথভাবে এই ‘স্পেশাল ড্রাইভ’-এর সূচনা হয়। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই অভিযান।
কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে এবং মেট্রোর পিসিএমও ড. রীনা মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শুরু হয়েছে এই বিশেষ উদ্যোগ। অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন তিনি। রাস্তা, ফুটপাত থেকে বাজার—বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে নাগরিক পরিষেবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন করছেন পুরমন্ত্রী।
বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গু সংক্রমণ যাতে কোনওভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য এবার পুরসভা ও মেট্রোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে ডেঙ্গু নির্মূল করা সম্ভব নয়।” একইসঙ্গে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা নিয়েও বার্তা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাতের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা খালি রাখতে হবে।পুরসভা সূত্রে খবর, ডেঙ্গি প্রতিরোধে এবার শহরের প্রতিটি মেট্রো স্টেশন এবং তার আশপাশের এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। কোথাও জল জমে রয়েছে কি না, মশার লার্ভা জন্মানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না—সবই সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শুধু মেট্রো স্টেশন নয়, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বিভিন্ন স্টেশন ও ট্রেনের কারশেড এলাকাতেও পরিদর্শন চালানো হবে। বৃষ্টির জল জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এমন জায়গাগুলিকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হবে। রেল আবাসন এলাকাতেও চলবে নজরদারি। পাশাপাশি পরিত্যক্ত জমি, ঝোপঝাড় এবং অপরিচ্ছন্ন এলাকা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জল জমে থাকা নিয়ে জমির মালিকদেরও সতর্ক করা হচ্ছে। কলকাতা পুরসভার ৪৯৬ নম্বর ধারায় নোটিস পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহার কিংবা যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেললে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। শুধু জরিমানা করেই ছেড়ে দেওয়া হবে না। প্রকাশ্যে থুথু ফেলা বা নোংরা করার মতো ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করানোর পাশাপাশি সেই কাজের ছবি তুলে সমাজমাধ্যমে প্রচারের মতো কড়া পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়েছে।
পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই অভিযান শুধুমাত্র বর্ষাকালেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী দিনেও বিভিন্ন সরকারি দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। সেচ দফতর, পূর্ত দফতর-সহ অন্যান্য সরকারি বিভাগের সহযোগিতায় গোটা রাজ্যেই ডেঙ্গি প্রতিরোধে এই ধরনের অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “এটা শুধু রাজ্য সরকারের একার লড়াই নয়, এটাকে গণআন্দোলনে পরিণত করতে হবে।” বাড়ির টব কিংবা অন্য কোনও পাত্রে যাতে জল জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে নিয়মিত জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে কলকাতা পুরসভা ও মেট্রোর এই বিশেষ ডেঙ্গি-বিরোধী অভিযান।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *