প্রসেনজিৎ ধর,হুগলি:- উত্তরপাড়ার হিন্দমোটরে বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম স্বরূপ নন্দ সাহু। তিনি পেশায় র্যাপিডো চালক ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অনটন, ঋণের বোঝা এবং দাম্পত্য অশান্তির জেরেই এই ঘটনা কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও যুবকের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা, নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।জানা গিয়েছে, উত্তরপাড়ার হিন্দমোটর এলাকার একটি আবাসনের পাঁচতলার ছাদে স্ত্রী কিরণবালা সাহুর সঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন স্বরূপ। রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ আচমকাই ছাদ থেকে নীচে পড়ে যান তিনি। আবাসনের নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে উত্তরপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুন কিরণবালার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল স্বরূপের। বিয়ের সময়ও তিনি ঋণ করেছিলেন এবং মোটা টাকা খরচ হয়েছিল বলে জানা যায়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত বলে দাবি পরিবারের। এমনকি স্ত্রীর গয়নাও মুথুট ফাইনান্সে বন্ধক রাখা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
দাম্পত্য অশান্তির বিষয়টি নিয়ে দু’দিন আগেই স্বামী-স্ত্রী দু’জনকে স্থানীয় থানায় ডেকে পাঠিয়েছিল পুলিশ। নিজেদের মধ্যে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। এর পরেই গভীর রাতে বহুতলের ছাদ থেকে স্বরূপের পড়ে যাওয়ার ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
স্থানীয় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তাপস মুখোপাধ্যায়ের দাবি, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই দেনার মধ্যে ছিল। কয়েকদিন আগে তাঁদের ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, আর্থিক কারণে পরিবারে অশান্তি এবং স্বরূপের মানসিক অবসাদ ছিল বলে তিনি শুনেছেন। তবে স্বরূপ আত্মঘাতী হয়েছেন, নাকি অন্য কোনও কারণে ছাদ থেকে পড়েছেন, তা পুলিশকে তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।প্রতিবেশী অসীম বারিক বলেন, স্বরূপকে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চিনতেন। তিনি র্যাপিডো বাইক চালাতেন। কীভাবে ছাদ থেকে পড়ে গেলেন, তা তাঁদের জানা নেই। ওই আবাসনে স্বরূপ, তাঁর স্ত্রী এবং মা থাকতেন। তাঁর বাবা বাইরে থাকেন বলেও জানান প্রতিবেশী।ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। আবাসনের নীচে যে জায়গায় স্বরূপ পড়েছিলেন, সেটি ঘিরে দেওয়া হয়। তাঁর মা ও স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু করেছে পুলিশ। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই স্বরূপের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal