নিজস্ব সংবাদদাতা:- অগস্ট মাসের শুরু থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৯ শিশুর। শনিবার স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে মালদহে যাওয়া বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দলের পর্যালোচনায় এই পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, শিশুমৃত্যুর পিছনে অন্যতম বড় কারণ সদ্যোজাত এবং প্রসূতিদের অপুষ্টি। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিকাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা এবং প্রসূতিদের স্বাস্থ্যের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে প্রতিনিধি দল। অগস্টের মাঝামাঝি সময়ে একদিনে মালদহ মেডিক্যালে ১০ নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। ওই সময় হাসপাতালটিতে মোট শিশুমৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০-এ পৌঁছেছিল। পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল জেলা প্রশাসন ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। এরপর জেলায় একাধিক নার্সিংহোমে আচমকা পরিদর্শনের পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠায় স্বাস্থ্য ভবন।
সেই নির্দেশের পরই শনিবার মালদহ মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছয় স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞ দল। স্বাস্থ্য দফতরের অতিরিক্ত ডিরেক্টর এবং কমিটির চেয়ারম্যান প্রলয় আচার্যের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ও চিকিৎসা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন। চিকিৎসকদের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন তাঁরা।
বৈঠক শেষে প্রলয় আচার্য জানান, ৮৯টি শিশুর মৃত্যুর পিছনে একাধিক চিকিৎসাগত কারণ রয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রসূতি ও সদ্যোজাতের তীব্র অপুষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা, জন্ডিস এবং জন্মের সময় অত্যন্ত কম ওজনের মতো একাধিক জটিলতা নিয়ে অনেক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।প্রতিনিধি দলের তরফে হাসপাতাল ও জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কিছু পরিকাঠামোগত সমস্যা এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কথাও স্বীকার করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একাধিক জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ দলের চেয়ারম্যান। একইসঙ্গে এলাকায় বেআইনি গর্ভপাতের চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, সেই অভিযোগও খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মালদহ মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, যে দিন ১০ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে আটজনই জেলার বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় রেফার হয়ে এসেছিল। ওই দিন মেডিক্যাল কলেজে জন্ম নেওয়া মাত্র দু’টি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল বলেও দাবি কর্তৃপক্ষের।তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই ব্যাখ্যার পরেও জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে রেফার হয়ে আসা প্রসূতি ও সদ্যোজাতদের চিকিৎসা পরিষেবায় কোথাও গলদ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞ দলের পর্যবেক্ষণেও সেই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal