দেবরীনা মণ্ডল সাহা :- শিক্ষক দিবস উপলক্ষে স্কুলে আয়োজিত খাওয়াদাওয়াকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হল জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে। দশম শ্রেণির কয়েক জন পড়ুয়ার সঙ্গে শিক্ষকদের বচসার পর তা গড়াল মারধরে। শিক্ষকদের অভিযোগ, একদল ছাত্রের হাতে আক্রান্ত হন স্কুলের প্রধানশিক্ষক ধর্মচাদ বারুই। মারের চোটে তাঁর কপাল ফেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত শনিবার ছিল শিক্ষক দিবস। তবে মঙ্গলবার সেই উপলক্ষে স্কুলে পড়ুয়াদের নিয়ে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেছিলেন শিক্ষকরা। অভিযোগ, দশম শ্রেণির ছাত্রদের হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কয়েক জন পড়ুয়া শিক্ষকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে। এরপরই বচসা শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে।
শিক্ষকদের দাবি, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দশম শ্রেণির একদল ছাত্র প্রধানশিক্ষকের উপর চড়াও হয়। তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মারের আঘাতে তাঁর কপাল ফেটে যায় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় স্কুলের মেঝেতে পড়ে যান তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খবর দেওয়া হয় পুলিশে।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত প্রধানশিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু অভিযোগ, তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িও আটকে দেয় পড়ুয়াদের একাংশ। পরে কোনওক্রমে পরিস্থিতি সামলে প্রধানশিক্ষককে হাসপাতালে পাঠানো হয়।ঘটনার পর গোটা স্কুল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধানশিক্ষককে মারধরের অভিযোগে বিস্মিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে কোন কোন পড়ুয়া জড়িত ছিল, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। আহত প্রধানশিক্ষকের শারীরিক অবস্থা এবং তাঁর আঘাত কতটা গুরুতর, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal