নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা :- তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের বাড়ি ও অফিসে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া অভিযান শেষ হয় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নাদিমুল হকের কলকাতার পার্ক সার্কাসের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
ইডি সূত্রে দাবি, একটি সংবাদপত্রের অফিসকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের নামে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের তদন্তে নেমেছে সংস্থা। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, প্রায় ৬০ কোটি টাকার আর্থিক গরমিলের সূত্র মিলেছে। ওই বিপুল অঙ্কের টাকা কার কার অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, লেনদেনে হাওয়ালার কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই নাদিমুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রের খবর।সোমবার কলকাতার সংবাদপত্রের দফতরের পাশাপাশি রাঁচি, দিল্লি-সহ নাদিমুলের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। অভিযানের সময় বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তল্লাশির শুরুতেই নাদিমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সে সময় তিনি কলকাতার বাইরে ছিলেন। রাতে শহরে ফেরার পর তাঁকে সঙ্গে নিয়েই পার্ক সার্কাসের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।তদন্তকারীদের দাবি, অভিযানে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখে একাধিক অনিয়মের সূত্র মিলেছে বলে ইডির দাবি। সংবাদপত্রের পাশাপাশি আরও একটি সংস্থার ডিরেক্টর পদে রয়েছেন নাদিমুল। দুই সংস্থার আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, হিসাবের বাইরে টাকা লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। সেই অর্থের উৎস এবং কোথায় কী ভাবে তা ব্যবহার হয়েছে, এখন সেটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।যদিও সন্দেহজনক লেনদেনের সঠিক অঙ্ক নিয়ে ইডির তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সূত্রের দাবি, অঙ্কটি কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ৬০ কোটি টাকার যে হিসাবের কথা উঠে আসছে, তার সঙ্গে সম্পর্কিত নথি ও ডিজিটাল তথ্যই এখন তদন্তকারীদের বিশেষ নজরে।এদিকে ইডির অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করছে বিজেপি। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সাংসদদের ভয় পেয়েই এ ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে।তৃণমূলের সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডেরেক ও’ব্রায়েনও অভিযানকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তল্লাশির সময় নাদিমুল সংসদের ‘গভর্নমেন্ট অ্যাসিওর্যন্স কমিটি’-র কাজে রাঁচিতে ছিলেন। পরে কলকাতায় ফিরে এলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।তল্লাশিতে পাওয়া নথি এবং বাজেয়াপ্ত ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal