নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা :- তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক এবং দলের স্বত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদের মাঝে এবার অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে পারে নির্বাচন কমিশন। শনিবার কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই ইঙ্গিত পাওয়ার দাবি করলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। যদিও কমিশন কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিলে তার বিরুদ্ধে আইনি পথে যাওয়ার প্রস্তুতিও তাঁরা রাখছেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়— কোন গোষ্ঠী ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস, সেই দাবির নিষ্পত্তির আগে দু’পক্ষের বক্তব্য শুনতে শনিবার প্রতিনিধিদের ডেকে পাঠায় নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথমে কমিশনের দ্বারকা এলাকার দফতরে যায় ঋতব্রতপন্থী পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এরপর কালীঘাটপন্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। বৈঠক শেষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে তাঁদের সঙ্গে কমিশনের আলোচনা হয়েছে। কমিশনের তরফে একাধিক প্রশ্ন করা হয় এবং প্রতিটি প্রশ্নের জবাব তাঁরা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে বৈঠকের পরেই কমিশনের সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী নির্দেশ নিয়ে আশঙ্কার কথা জানান তৃণমূল সাংসদ। কল্যাণের কথায়, ‘‘আভাস পাওয়া গিয়েছে, হয়তো নির্বাচন কমিশনের তরফে একটা অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে। যদি তা করা হয়, তার বিরোধিতা করব আমরা।’’ এদিকে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পরেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের আইনজীবী হিসেবে কল্যাণ কত টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছেন, তা মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে জানতে চাইবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ঋতব্রতের সেই বক্তব্যের জবাবও দেন কল্যাণ। তিনি বলেন, ‘‘২০২৬ সালের নির্বাচনে লড়লেন কেন? সিপিএম থেকে এসে কেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হতে হলো? আমি পরিশ্রম করে টাকা রোজগার করেছি। মামলায় লড়াই করে ফি নিয়েছি, এটা অন্যায় নয়। আমি ট্যাক্সও দিয়েছি, এটা আমার পেশা।’’
এর পাশাপাশি আসন্ন উপনির্বাচন নিয়েও দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর— দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রার্থী দেবে তৃণমূল কংগ্রেস।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal