প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-জমি দখল ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে জেলবন্দি প্রাক্তন পুলিশকর্তা শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবার দুর্নীতি দমন আইনে নতুন মামলা দায়ের হল। গড়িয়াহাট থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পদমর্যাদা ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া কিংবা প্রভাব খাটানোর বিনিময়ে শান্তনু সিংহ বিশ্বাস এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে নগদ অর্থের পাশাপাশি উপহার ও অন্যান্য সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসায়ী রাজেশ কুমার জাজোদিয়ার বিভিন্ন সংস্থা থেকে শান্তনুর স্ত্রী কাকুলি সিংহ বিশ্বাস প্রায় ৭৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ১৯৮ টাকা বেতন হিসেবে নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় ৮২ লক্ষ টাকা মূল্যের দু’টি ফ্ল্যাট বেনামে কেনার অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়াও শান্তনুর ছেলে সায়ন্তন সিংহ বিশ্বাসের মেডিক্যাল কলেজের ফি বাবদ প্রায় ২১ লক্ষ টাকা প্রভাব খাটিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। মুর্শিদাবাদের কান্দিতে শান্তনুর বিলাসবহুল বাড়ি সংস্কারের ক্ষেত্রেও প্রায় ৬২ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছিল এবং সেই অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে মামলায়।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হত। এমনকি অভিযুক্ত ব্যবসায়ী জয় কামদারের স্ত্রীর কাছ থেকেও প্রায় ২ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি নামী সংস্থার ব্যাগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শান্তনুর বিরুদ্ধে।
সব মিলিয়ে প্রাক্তন এই পুলিশকর্তা এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়া ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। নতুন মামলায় এই আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।উল্লেখ্য, জমি দখল ও বেআইনি জমি-লেনদেন সংক্রান্ত মামলায় শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিটও জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির চার্জশিটে শান্তনুর সঙ্গে সোনা পাপ্পু ও ব্যবসায়ী জয় কামদারের যোগসূত্র এবং জমি দখলের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি থাকাকালীনও শান্তনুর নাম সোনা পাপ্পু সংক্রান্ত মামলায় উঠে আসে। ইডির তদন্তে তাঁর সঙ্গে সোনা পাপ্পু ও জয় কামদারের আর্থিক ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এবার দুর্নীতি দমন আইনে দায়ের হওয়া নতুন মামলায় প্রাক্তন এই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal