প্রসেনজিৎ ধর :- উপনির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে থাকার ক্ষেত্রে ৬ অক্টোবর তাঁদের ‘পরীক্ষা’। একইসঙ্গে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপি কল্পনাতীত ব্যবধানে জয় পাবে বলেও দাবি করেন তিনি।সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা, “নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সংখ্যালঘুদের জন্য বললাম, এটাই আপনাদের একটা সুযোগ। সরকার-মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যদি থাকতে চান, হাতে হাত মিলিয়ে যদি কাজ করতে চান, কাজ নিতে চান, আপনাদের পরীক্ষা ৬ অক্টোবর। আপনি পরীক্ষায় পাশ করবেন না ফেল করবেন, সেটা আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম। বাকি আমরা তো জিতছি, জিতব।”এরপরই নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপির জয়ের ব্যবধান নিয়েও বড় দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “ভোট করতে আমরা জানি, ভোট করাতেও আমরা জানি। বিজেপি এমন মার্জিনে জিতবে, যা কেউ কল্পনা করতে পারবে না।” পাশাপাশি সংখ্যালঘুদেরও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি—তাঁরা কার সঙ্গে থাকবেন, তা ৬ অক্টোবরের ভোটে ঠিক করার বার্তা দেন।
রাজনৈতিকভাবে নন্দীগ্রাম-১ এবং রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই সংখ্যালঘু ভোট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। নন্দীগ্রাম-১ বরাবরই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনীর সাপ্লিমেন্টারি তালিকা অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম থেকে বাদ পড়া ২,৮২৬ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৯৫.৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২,৭০০ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নন্দীগ্রামে প্রায় ৭৫ শতাংশ হিন্দু ভোটের বড় অংশ বিজেপির দিকে যেতে পারে। তবে বিজেপির জয়ের ব্যবধান কতটা হবে, তার ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে, রেজিনগরে সংখ্যালঘু ভোট আরও বড় ফ্যাক্টর। এই কেন্দ্রে মোট ভোটারের প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর আসনে বিজেপি প্রার্থীকে ৫৮,৮৭৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর।
এই পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামের মাটি থেকে রেজিনগরের প্রসঙ্গও টেনে আনেন শুভেন্দু। সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “সংখ্যালঘুরা ঠিক করুন কার সঙ্গে থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকার জন্য এটা আপনাদের কাছে একটা সুযোগ।”ফলে উপনির্বাচনের আগে শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে যায় এবং তা বিজেপির জয়ের ব্যবধানে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal