দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পুজোগুলির তালিকায় বাগবাজারের দুর্গাপুজোর নাম বহু পুরনো। উত্তর কলকাতার এই পুজোর প্রতিমা দেখতে প্রতি বছরই ভিড় জমান শহরবাসী। তবে পুজোর আগেই এ বছর কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল আইনি জটিলতা। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্টের রায়ে সেই জট কাটল। বাগবাজারের পুজো কমিটি গঠন নিয়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া নির্দেশই বহাল রাখল উচ্চ আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি হীরন্ময় ভট্টাচার্য জানিয়ে দেন, যে পদ্ধতিতে বাগবাজারের পুজো কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা সঠিক। একইসঙ্গে পুজো এবং পুজোকে কেন্দ্র করে আয়োজিত মেলা কোনওভাবেই বন্ধ করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করেছে আদালত।বাগবাজার পুজো কমিটি এবং ক্লাব পরিচালনার জন্য ১৪ সদস্যের একটি ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। ভোটাভুটির পর দেখা যায়, ম্যানেজিং কমিটির ১২টি আসনের মধ্যে চারটি ক্ষেত্রে প্রার্থীদের ভোট সমান হয়ে যায়। এমনকি সম্পাদক পদেও দুই প্রার্থীর ভোটসংখ্যা সমান হওয়ায় জটিলতা আরও বাড়ে।ভোটার তালিকায় মোট ৭৭ জন সদস্যের নাম থাকলেও নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ৬৬ জন। ভোটের ফল প্রকাশের পরই কমিটি গঠন নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। এরপর বিষয়টি নিয়ে নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হন এক পক্ষ।নিম্ন আদালত নির্দেশ দেয়, সমান ভোট পাওয়া পদগুলির ক্ষেত্রে কাস্টিং ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে হবে এবং ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন ক্লাবের অন্যতম সদস্য রবিশঙ্কর সেনগুপ্ত। তবে হাই কোর্ট নিম্ন আদালতের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দেয়নি।ফলে আদালতের নির্দেশ মেনে কাস্টিং ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আবেদনকারীর অভিযোগ ছিল, নিম্ন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কাস্টিং ভোটের যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। সেই প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করেই ফের হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
মঙ্গলবার সেই আবেদনের শুনানিতেই হাই কোর্ট জানিয়ে দেয়, কাস্টিং ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের পদ্ধতিতে কোনও ত্রুটি নেই। নিম্ন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যে প্রক্রিয়ায় ভোট হয়েছে, সেটিই সঠিক বলে মান্যতা দিয়েছে উচ্চ আদালত। ফলে সেই প্রক্রিয়ায় গঠিত কমিটিকেই বৈধ বলে গণ্য করা হবে।
এর পাশাপাশি আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাগবাজারের দুর্গাপুজো এবং তাকে ঘিরে আয়োজিত মেলা বন্ধ করা যাবে না। আদালতের এই নির্দেশের ফলে পুজো কমিটি গঠন নিয়ে তৈরি যাবতীয় আইনি জটিলতার অবসান হল। ফলে নির্ধারিত কমিটির হাতেই এবার বাগবাজারের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোর আয়োজন এগিয়ে চলবে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal