প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের মামলায় নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতে সেই তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে তদন্তের গতি নিয়ে এখনও সন্তুষ্ট নন নির্যাতিতার বাবা। যদিও তাঁর আস্থা রয়েছে সিবিআইয়ের উপরই।
মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে শিয়ালদহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। শুনানি শেষে আদালত চত্বর থেকে বেরিয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেন, এখনও যারা গ্রেফতার হয়নি, তারা বেশিদিন বাইরে থাকতে পারবে না। তাঁর কথায়, “অপরাধীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, তবে বেশি দিন ঘুরে বেড়াতে পারবে না। তারা সবাই শাস্তি পাবে।”তদন্তের ক্ষেত্রে সিবিআইয়ের উপরই আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “যা করার সিবিআই করবে। রাজ্য পুলিশের হাতে যে টুকু ক্ষমতা আছে, তারা সেটা করবে।” একইসঙ্গে দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার আশাও প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ তাকিয়ে আছে। ন্যায়বিচার দিতেই হবে।”
তবে নতুন করে তদন্ত শুরু হলেও তদন্তের গতিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর দাবি, আগের তদন্তকারী দলের তুলনায় নতুন তদন্তকারী দল বেশি কাজ করছে। কিন্তু তদন্ত যে গতিতে এগোনো প্রয়োজন, সেই গতি এখনও দেখা যাচ্ছে না। তাঁর কথায়, “তদন্ত যে একটু এগোচ্ছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু যে দ্রুততার সঙ্গে এগোনোর কথা সেটা হচ্ছে না।”উল্লেখ্য, আরজি করের ঘটনার তদন্ত প্রথমে শুরু করেছিল কলকাতা পুলিশ। তদন্তের পর সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা চার্জশিটে সঞ্জয় রায়কেই একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে। পরে শিয়ালদহ আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পান।কিন্তু তদন্তের শুরু থেকেই পুলিশের পাশাপাশি সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল নির্যাতিতার পরিবার। তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত নতুন করে করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই নির্দেশ মেনেই সিবিআই নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে।নতুন তদন্তকারী দল দায়িত্ব নেওয়ার পর ফের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার সেই তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট শিয়ালদহ আদালতে জমা পড়েছে। ফলে মামলার তদন্ত কোন পথে এগোচ্ছে এবং বাকি প্রশ্নগুলির উত্তর কত দ্রুত সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal