Breaking News

‘রাজ্যের প্রকৃত বিশ্বকর্মারাই আগের সরকারকে উৎখাত করেছেন’! কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সূচনায় বিস্ফোরক শুভেন্দু, ২০২৭-এ ব্রিগেডে ৫ লক্ষ সুবিধাভোগী নিয়ে উদযাপনের ঘোষণা

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’। বৃহস্পতিবার কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে এই প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় এমএসএমই মন্ত্রী জিতন রাম মাঝি। রাজ্যের হস্তশিল্পী, কারিগর ও বংশানুক্রমিক শিল্পীদের আর্থিক ও প্রশিক্ষণগত সহায়তা দেওয়াই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে রাজ্যের আগের সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিশ্বকর্মা পোর্টালে প্রায় ৭ লক্ষ ৭০ হাজার কারিগরের নাম নথিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও এতদিন প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা দূর করে প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘‘বিশ্বকর্মা পোর্টালে নিবন্ধিত ৭ লক্ষ ৭০ হাজার কারিগর থাকা সত্ত্বেও আগের সরকার জেলাশাসকদের অলিখিত নির্দেশ দিয়ে এই কাজ বন্ধ রেখেছিল।’’ তাঁর দাবি, সরকারি সুবিধা না পাওয়ায় বহু স্বর্ণশিল্পী, চামড়াশিল্পী ও হস্তশিল্পী কাজের সন্ধানে সুরাট, দিল্লি, জয়পুর ও পুনের মতো ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
বিশ্বকর্মা যোজনার সুবিধার দিকগুলিও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বংশানুক্রমিক শিল্প ও কারিগরি দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র বাধ্যতামূলক হবে না বলে জানান তিনি। আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণকালীন ভাতা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার পাশাপাশি জামানতমুক্ত ব্যাঙ্ক ঋণের ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু।
এদিন রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালুর প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। গত ১৬ অগস্ট থেকে চালু হওয়া এই পরিষেবায় এখনও পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় ৫০ হাজার সাধারণ মানুষ এবং ভিনরাজ্যে থাকা প্রায় ২ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।এর পাশাপাশি রাজ্যের উদ্যোক্তাদের কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। জাতীয় উদ্যম পোর্টালে পশ্চিমবঙ্গের ৬৩ লক্ষ ২২ হাজারের বেশি নিবন্ধিত উদ্যোক্তাকে পিএমইজিপি এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ২০২৭ সালের মধ্যে রাজ্যে বিশ্বকর্মা যোজনার সুবিধাভোগীর সংখ্যা পাঁচ লক্ষে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
২০২৭ সালের বিশ্বকর্মা দিবস নিয়েও বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অডিটোরিয়ামে নয়, কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে খোলা মাঠে অন্তত পাঁচ লক্ষ সুবিধাভোগীকে নিয়ে বিশ্বকর্মা দিবস উদযাপন করা হবে।এদিনের অনুষ্ঠান শেষে গঙ্গার ঘাটে এক লক্ষ প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের কর্মসূচিতেও অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বকর্মা যোজনার সুবিধা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *