দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো আসন্ন। উৎসবের আগে শহরের নামী রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলিতে খাবারের গুণমান এবং স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখতে আরও সক্রিয় কলকাতা পুরসভা। বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভার ফুড সেফটি অফিসারদের বিশেষ দল শহরের একাধিক নামী খাদ্য প্রতিষ্ঠানে আচমকা অভিযান চালায়। আর সেই তল্লাশিতেই সামনে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ছবি। আমিনিয়া, গাঙ্গুরাম-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে মিলেছে মেয়াদউত্তীর্ণ, বাসি এবং খাবারের অনুপযোগী খাদ্যদ্রব্য। উদ্ধার হওয়া সেই সমস্ত খাবার বাজেয়াপ্ত করে ঘটনাস্থলেই নষ্ট করে দেওয়া হয়| পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গোলপার্ক এবং সংলগ্ন এলাকায় একাধিক রেস্তোরাঁয় আচমকা হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘর ও ফ্রিজ খতিয়ে দেখার সময় আমিনিয়ার ফ্রিজ থেকে উদ্ধার হয় মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া ফিরনি। পাশাপাশি বেশ কিছু ব্যবহারঅযোগ্য সসের বোতলও পাওয়া যায়। আধিকারিকদের নির্দেশে সেগুলি নর্দমায় ফেলে নষ্ট করে দেওয়া হয়। গোলপার্কের আরও একটি রেস্তোরাঁয় তল্লাশি চালিয়ে গভীর ফ্রিজ থেকে উদ্ধার হয় দিনের পর দিন সংরক্ষণ করে রাখা বাসি কাবাব এবং মোমো। শুধু তাই নয়, একটি দুধের প্যাকেটের ভিতরে মরা আরশোলা ভাসতে দেখা যায় বলে পুরসভা সূত্রে খবর। ওই দুধও সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দেওয়া হয়।
এরপর শহরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান গাঙ্গুরামে পৌঁছন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। সেখানে বিক্রির জন্য রাখা সিল করা নিমকির প্যাকেট পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, প্যাকেটের ভিতরে রয়েছে পাখির পালক। বিষয়টি নিয়ে দোকানের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের প্রশ্ন করেন পুরকর্মীরা। সংস্থার এক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজেদের ভুল স্বীকার করে জানান, প্যাকেজিংয়ের সময় অসাবধানতাবশত পালকটি প্যাকেটের মধ্যে ঢুকে গিয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, জিশান রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়েও একাধিক অনিয়মের সন্ধান পান আধিকারিকরা। সেখানে ফ্রিজে রাখা ফ্রোজেন চিংড়ি, বাসি মাছ এবং চাউমিন উদ্ধার করা হয়। ওই খাবারগুলির ক্ষেত্রে উৎপাদনের তারিখ বা মেয়াদ শেষের তারিখ উল্লেখ ছিল না বলেও জানা গিয়েছে। ফলে সেগুলিও ফেলে দেওয়া হয়। পুজোর আগে শহরবাসীর খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দফতর ইতিমধ্যেই কড়া অবস্থান নিয়েছে। উৎসবের মরসুমে যাতে বাসি, পচা কিংবা মেয়াদউত্তীর্ণ খাবার কোনওভাবেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে না পারে, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর আগেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং নিয়মভঙ্গের অভিযোগে কলকাতার প্রায় ৪০টি খাদ্য বিপণির লাইসেন্স বাতিল করে তালিকা প্রকাশ করেছিল পুরসভা।
পুজোর ঠিক আগে শহরের একাধিক নামী প্রতিষ্ঠানে বাসি কাবাব-মোমো, মেয়াদউত্তীর্ণ খাবার এবং খাবারের প্যাকেটে পাখির পালকের মতো ঘটনা সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই খাদ্যের গুণমান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, উৎসবের দিনগুলিতেও এই ধরনের ঝটিকা অভিযান শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চালানো হবে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal