Breaking News

১২ বছর পর রোজভ্যালির আমানতকারীদের মুখে হাসি? পুজোর আগেই ৫০০ কোটি টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরুর আশ্বাস হাইকোর্টে

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- রোজভ্যালির আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করতে এবার কলকাতা হাই কোর্টে বড় প্রস্তাব দিল রাজ্য সরকার। দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে টাকা ফেরতের অপেক্ষায় রয়েছেন লক্ষ লক্ষ আমানতকারী। তাঁদের সেই টাকা ফেরাতে রোজভ্যালির ২১টি হোটেল-সহ সমস্ত সম্পত্তি এক বছরের মধ্যে বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিবের তরফে রিপোর্ট আকারে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে।রাজ্যের প্রস্তাব অনুযায়ী, রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা আমানতকারীদের মধ্যে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি আদালতের নজরদারিতে পরিচালনারও আবেদন জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, সম্পত্তি বিক্রি থেকে শুরু করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া—পুরো প্রক্রিয়াতেই আদালতের তদারকি রাখার প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য।রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরেই টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে আসছেন বহু আমানতকারী। এই মামলায় তদন্তের পাশাপাশি রোজভ্যালির একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের মার্চে রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। পরবর্তী সময়ে তাঁর স্ত্রী শুভ্রা কুণ্ডুকেও গ্রেফতার করে সিবিআই।
আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর জন্য এর আগে হাই কোর্টের নির্দেশে অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল। তবে ওই কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্টেটমেন্ট অফ ফিনান্সিয়াল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিপোর্টিং (SFIO)-এর তরফেও কমিটির কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পুরনো অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন ব্যবস্থায় টাকা ফেরানোর প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য। রাজ্যের বক্তব্য, আদালতের নজরদারিতে সম্পত্তি বিক্রি করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক।
রোজভ্যালি মামলায় আমানতকারীদের পাওনা অর্থের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা বলে বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরতের অপেক্ষায় থাকা আমানতকারীদের কাছে রাজ্যের এই প্রস্তাব তাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে হাইকোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *