প্রসেনজিৎ ধর :- দলের নাম ও প্রতীক হারানোর পর এবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘোষণা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। উপনির্বাচনের আগে কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা জানালেন মমতা। তবে রেজিনগর কেন্দ্র নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দলের নাম ও প্রতীক বদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে এদিন নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের সিদ্ধান্ত ‘অগণতান্ত্রিক এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট’। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ও এনসিপির নাম-প্রতীক সংক্রান্ত ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। মমতার কথায়, ‘আজ গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটা কালো দিন।’ একই সঙ্গে সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অসম্মান করেন না বলেও জানান তিনি।রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে সব দলের প্রার্থীরাই মনোনয়ন জমা দিয়ে দিয়েছেন। তার মধ্যেই শুক্রবার দুপুরে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেন কালীঘাট শিবিরের সঞ্চিতা প্রধান দে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে মমতা বলেন, ‘কংগ্রেসের প্রার্থী ভালো। আমরা শুরু থেকেই তাই কংগ্রেসকে সমর্থন করতে চেয়েছিলাম।’ অসমে তাঁর দল কংগ্রেসকে সমর্থন করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নন্দীগ্রামেও আমরা একই ভাবে সমর্থন জানাচ্ছি। ইন্ডি জোটকে আরও শক্তিশালী করতে এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত।’নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। তবে রেজিনগর নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মমতা। উল্লেখ্য, উপনির্বাচনের আগে কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী সরে দাঁড়ানো এবং কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণায় নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
এদিন দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান মমতা। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি দেশের অখণ্ডতা ও গণতন্ত্র ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দেশ আজ একটি গভীর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি সমস্যায় রয়েছে। মহিলা, শিক্ষা, ছাত্রছাত্রী, যুবসমাজ, গণতন্ত্র, দেশের ঐক্য এবং অখণ্ডতা, সবকিছুই আজ প্রশ্নের মুখে।’নির্বাচনে কারচুপি এবং ভোট বাদ দেওয়ার অভিযোগও ফের তোলেন মমতা। ইভিএম প্রসঙ্গের পাশাপাশি SIR-এর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘ইভিএম নিয়ে কারচুপির পরেও ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র প্রায় ৩২ লক্ষ। পাশাপাশি ২৭ লক্ষ ভোট অ্যাডজুডিকেশনের নামে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বাদ দেওয়া হয়েছে আরও ৭ লক্ষ ভোট।’ যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত প্রমাণ বা নির্দিষ্ট নির্বাচনের উল্লেখ সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট করেননি তিনি।তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফিরে পাওয়ার জন্য আইনি পথে লড়াই চালানোরও ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ও এনসিপির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘প্রথমে উদ্ধব ঠাকরের দলকে ভাগ করল। তার পরে এনসিপিকে। আমাদের কাছেও বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য প্রস্তাব এসেছিল। আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি।’ এরপরই তাঁর বার্তা, ‘আত্মসমর্পণ করব না। রাজনৈতিক চাপের সামনে মাথা নত করব না। গণতান্ত্রিক এবং আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাব।’
রাজ্যবাসীর কাছেও সমর্থনের আবেদন জানান মমতা। তাঁর কথায়, ‘বাংলার মানুষের কাছে আবেদন করছি, আমাদের সঙ্গে থাকুন, পাশে দাঁড়ান। তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় জন্ম নিলেও, সব সময়েই বৃহত্তর জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলেছে।’ মহিলাদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal