প্রসেনজিৎ ধর:- নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে ফের বড় ঘটনা। গ্রেফতার হলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। একটি পুরনো খুনের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবারই নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঘোষণার পরই কংগ্রেস প্রার্থীর গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, পুরনো ওই খুনের মামলায় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সেই মামলাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার তাঁকে হলদিয়া আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, শনিবারই উপনির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। শুক্রবার কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের বৃহত্তর স্বার্থ এবং জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করার ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এর আগে শুক্রবারই নন্দীগ্রামে কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। ফলে নতুন করে প্রার্থী দেওয়ার সময়সীমাও কার্যত শেষ হয়ে যায়। এবার কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেফতার হওয়ায় নন্দীগ্রামের নির্বাচনী সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়ের ঠিক আগে এই গ্রেফতারির ফলে কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও প্রার্থী বদলের সুযোগ কার্যত থাকছে না। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে একের পর এক ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে নন্দীগ্রামে। সঞ্চিতা প্রধান দে-র প্রার্থীপদ প্রত্যাহার নিয়েও ইতিমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সঞ্চিতার প্রার্থীপদ প্রত্যাহার নিয়ে শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁর পরিবারকে ভয় দেখানো হয়েছিল। মমতার দাবি, সঞ্চিতার মাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকী তাঁর শিশুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
নন্দীগ্রাম বরাবরই বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। এই কেন্দ্র থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আন্দোলন গতি পেয়েছিল। ২০২১ ও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পাওয়ার পর শুভেন্দু নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে কেন্দ্রটি বিধায়কশূন্য হয়ে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্র থেকেও বিধায়ক হুমায়ুন কবীর পদ ছাড়ায় সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। একই দিনে দুই কেন্দ্রে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও নন্দীগ্রামে মনোনয়ন প্রত্যাহার ও প্রার্থী গ্রেফতার—পরপর দুই ঘটনায় উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal