দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- দুর্গাপুজো শেষ হতেই শহরের রাস্তা থেকে বিজ্ঞাপনের ব্যানার, ফ্লেক্স ও হোর্ডিং সরানোর জন্য কড়া নির্দেশ জারি করল কলকাতা পুরসভা। বুধবারের মধ্যে সমস্ত অস্থায়ী বিজ্ঞাপন এবং সেগুলি লাগানোর জন্য তৈরি বাঁশের কাঠামো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞাপন সংস্থা ও পুজো উদ্যোক্তাদের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে গুনতে হতে পারে মোটা অঙ্কের জরিমানা। পুরসভা সূত্রে খবর, নিয়ম না মানলে বিজ্ঞাপনের নির্ধারিত হারের তিন গুণ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। পাশাপাশি পুরসভার কর্মীরা বিজ্ঞাপন সরালে সেই খরচও সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করা হবে। প্রতি বছর দুর্গাপুজো মিটে যাওয়ার পরেও কলকাতার বিভিন্ন রাস্তার ধারে পড়ে থাকে বিজ্ঞাপনের ব্যানার, ফ্লেক্স ও হোর্ডিং। অনেক জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে রয়ে যায় অস্থায়ী বিজ্ঞাপনের কাঠামোও। এর ফলে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচল এবং যানবাহনের গতিবিধিতে সমস্যা তৈরি হয়। ঝড়-বৃষ্টি বা প্রবল হাওয়ায় এই কাঠামো ভেঙে পড়লে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। এই সমস্ত সমস্যা এড়াতেই এ বার বিজ্ঞাপন সরানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে পুরসভা। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছরের দুর্গাপুজোয় বিজ্ঞাপন লাগানোর জন্য পুজো উদ্যোক্তাদের অনাপত্তিপত্র বা এনওসি নিতে হয়েছিল। কোন পুজো কমিটি কোথায় বিজ্ঞাপন লাগিয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্যও পুরসভার কাছে রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিজ্ঞাপন না সরানো হলে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটি বা বিজ্ঞাপন সংস্থাকে চিহ্নিত করে পদক্ষেপ করতে পারবে পুরসভা। শুধু জরিমানা নয়, পুরসভার তরফে বিজ্ঞাপন ও কাঠামো সরানোর জন্য যে খরচ হবে, তার দায়ও নিতে হবে সংশ্লিষ্টদের। ইতিমধ্যেই শহরের বেশ কিছু এলাকা থেকে বিজ্ঞাপন সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। মানিকতলা, খান্না, শ্যামবাজার, মৌলালি, ইএম বাইপাসের কয়েকটি অংশ, পাটুলি এবং গড়িয়ার একাংশ থেকে ব্যানার ও হোর্ডিং সরানো হয়েছে বলে খবর। তবে গোলপার্ক, ঢাকুরিয়া, টালিগঞ্জ, যাদবপুর এবং বেহালার বিভিন্ন জায়গায় এখনও বহু অস্থায়ী বিজ্ঞাপন ও হোর্ডিং রয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের এক আধিকারিকের আশা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত অস্থায়ী বিজ্ঞাপন সরানো সম্ভব হলে পুজো-পরবর্তী সময়ে শহরের রাস্তা পরিষ্কার রাখা সহজ হবে। পাশাপাশি বেআইনি বা দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিজ্ঞাপনের কাঠামো থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকিও কমবে। এবার তাই বিজ্ঞাপন সরানোর ক্ষেত্রে কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করতে চাইছে না কলকাতা পুরসভা। বুধবারের মধ্যে নির্দেশ পালন না করলে জরিমানা এবং বিজ্ঞাপন সরানোর খরচ—দুইয়েরই বোঝা চাপতে পারে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও পুজো উদ্যোক্তাদের উপর।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal