দেবরীনা মণ্ডল সাহা:-সামনেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই মায়াপুরে গিয়ে হিন্দুত্বে শান দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ| সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে নিজেকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর একনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবেই তুলে ধরলেন তিনি। ভোটের আগে তাঁর এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। এদিন শাহের মুখে শোনা গেল হরে কৃষ্ণ। তিনি বলেন, চৈতন্যদেব ভক্তি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। গোটা বিশ্বে এই আন্দোলন ছড়িয়েছিলেন। একটা গোটা জীবন শ্রীকৃষ্ণকে দিয়ে দেওয়া যথেষ্ঠ কঠিন বিষয়। এখানে এসে চেতনা জাগ্রত করার সুযোগ পেলাম। তাঁকে বলতে শোনা গেল, এমনকী বহুবার মায়াপুরে আসার ইচ্ছা থাকলেও যে তা বারবার পিছিয়ে গিয়েছিল, তা নিয়ে আক্ষেপও ধরা পড়ে শাহের বক্তব্যে।শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর মহারাজের ১২৫তম জন্ম উৎসব উপলক্ষে এদিন মায়াপুরে বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন অমিত শাহ। সেখানে পৌঁছেই প্রথমে মন্দিরে পুজো দেন। এরপর সরাসরি মঞ্চে বক্তব্য রাখেন শাহ। ভক্তদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর বার্তাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ”মায়াপুরে আসার আগে সকালেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। মায়াপুর আসার কথা আমি তাঁকে জানিয়েছিলাম। উনি মন থেকে মায়াপুরের সকল ভক্তদের ‘হরে কৃষ্ণ’ অভিবাদন জানিয়েছেন।”শাহের সংযোজন,”সভার শুরুতেই আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে সম্বোধন করা হল। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমি এখানে আসিনি। চৈতন্য মহাপ্রভুর অনন্য ভক্ত হিসেবে আজ আমি এখানে এসেছি৷’’ শুধু তাই নয়, শাহ আরও বলেন, ”ভক্তি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন চৈতন্যদেব। আর সেই আন্দোলন গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।” এমন পুণ্যভূমিতে এসে চেতনা জাগ্রত করার সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি যে ধন্য তাও এদিন তুলে ধরেন শাহ। তাঁর কথায়, ”আজ মহাপ্রভুর এই পুণ্যভূমিতে পা রাখতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য ও কৃতজ্ঞ মনে করছি।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোটের আগে ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে সমর্থন পোক্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। বিশেষ করে বৈষ্ণব ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র মায়াপুরে এই সফর রাজনৈতিক বার্তাবাহী বলেই অনেকে ব্যাখ্যা করছেন।সব মিলিয়ে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দুই মিলিয়ে শাহের মায়াপুর সফর ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal