দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ডেকে কড়া বার্তা দিয়েছিল জাতীয় কমিশন। সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। সেই ডেডলাইন শেষের আগেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করল রাজ্য সরকার। এই চারজনের মধ্যে ২ জন ইআরও এবং ২ জন এইআরও। শেষপর্যন্ত কমিশনের ‘চাপে’ রাজ্য এফআইআর করার পর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির বক্তব্য, নিয়ম না মানলে এইরকম এফআইআর আরও হবে। রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজ শুরু আগেই ‘বিতর্কে’ জড়ান রাজ্যের চার আধিকারিক। বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগ উঠেছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। শুধু তাঁরা একা নন, একই অভিযোগে নাম জড়ায় ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত এক কর্মীরও। সেই অভিযোগ নিয়ে শোরগোল পড়তেই তাঁদের সাসপেন্ড করতে বলেছিল কমিশন। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগেই দুই জেলার ওই ৪ আধিকারিককে সাসপেন্ড করে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়ে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে চিঠি দিয়েছিল কমিশন। অভিযোগ, ওই আধিকারিকেরা ‘ভুয়ো’ বা ‘ভূতুড়ে’ ভোটারদের নাম তালিকায় বেআইনি ভাবে তুলেছেন। এ বিষয়ে প্রথমে গত বছর ৫ অগস্ট রাজ্যকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল কমিশন। পরে ৮ অগস্ট ফের একটি চিঠি পাঠানো হয়। নির্দেশ কার্যকর করা না-হওয়ায় গত ২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দুই জেলাশাসককে এফআইআর করার নির্দেশ দেয় কমিশন। সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। ইতিমধ্যে সিইও দফতর থেকে জেলাশাসকদের দু’বার ‘রিমাইন্ডার’ দেওয়া হয়।তবে তার মধ্যেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি)-এর পরামর্শ নেয় নবান্ন। তার পরে চিঠি পাঠায় সিইও দফতরে। চিঠিতে বলা হয়, ওই চার আধিকারিকের অপরাধ এফআইআর করার জন্য যথেষ্ট নয়। কম গুরুত্বপূর্ণ অপরাধে এত বড় শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়। অন্য দিকে, নির্দেশ কার্যকর না-হওয়ায় কমিশন গত শুক্রবার দিল্লিতে নির্বাচন সদনে তলব করেছিল রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিবকে। শনিবার জানা যায়, ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যকে সময় দিয়েছে কমিশন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই পদক্ষেপ করল নবান্ন।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal