Breaking News

ট্রাকের ধাক্কায় দুমড়ে গেল মারুতি! উচ্চ মাধ্যমিকের ডিউটি সেরে ফেরার পথে মৃত ২, জখম আরও ৩

প্রসেনজিৎ ধর :- উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ‘ডিউটি’ সেরে বাড়ি ফেরার পথে মৃত্যু হল এক শিক্ষিকার। তাঁর সঙ্গে প্রাণ গেল গাড়িচালকের। গুরুতর জখম শিক্ষিকার সহকর্মী-সহ আরও তিন জন। মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার মেদিনীপুর সদর ব্লকের বনপুরা এলাকার ঘটনা।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রূপা প্রামাণিক কেশপুর গার্লস হাইস্কুলের ইংরাজি বিষয়ের শিক্ষিকা। মুণ্ডুলিকা হাইস্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পরীক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। আজ, মঙ্গলবারও উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা ছিল। তিনি পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্বও সামলেছিলেন। পরীক্ষার পর তিনি ওই মারুতি গাড়ি করে বাড়ি ফিরছিলেন। গাড়িতে ছিলেন তাঁর সহকর্মী তথা কেশপুর গার্লস হাইস্কুলের গণিতের শিক্ষিকা কঙ্কণা সাঁতরা। মেদিনীপুর সদর ব্লকের জামতলা মাইতিগোলাতে কেশপুর-মেদিনীপুর রাজ্য সড়কের উপর দিয়ে ওই গাড়িটি যাচ্ছিল। সেসময় ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।জানা গিয়েছে, একটি ট্রাক ওই রাস্তা দিয়েই দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। উলটো দিক থেকে ওই মারুতি গাড়িটি যাচ্ছিল। মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় ট্রাক ও মারুতিটির। সংঘর্ষ এতটাই বেশি ছিল যে মারুতি গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ৩২ বছর বয়সী রূপা প্রামাণিক ও গাড়ির চালক বছর ৪৪-এর আবু নাসেরের। গুরুতর জখম হয়েছেন শিক্ষিকা কঙ্কণা সাঁতরা। তিনি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মেদিনীপুর থেকে কেশপুরের দিকে যাচ্ছিল মালবাহী একটি ট্রাক। মেদিনীপুর গ্রামীণের মুন্ডুলিকা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি চারচাকার গাড়িটিতে ধাক্কা মারে। মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে মুচড়ে যায় গাড়িটি। দুর্ঘটনার জেরে ব্যাপক যানজট হয়েছিল রাজ্য সড়কে। পুলিশের চেষ্টায় আপাতত যান চলাচল স্বাভাবিক। তবে দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরা, মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে। তবে চালক এবং খালাসি পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *