দেবরীনা মণ্ডল সাহা :-তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনার মধ্যেই মঙ্গলবার লোকসভার সচিবালয়ে গিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার সচিব উৎপলকুমার সিংহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর তিনি জানান, মানুষের স্বার্থে কাজ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য, আর সেই কাজ করতে গেলে কেন্দ্রের সহযোগিতা প্রয়োজন।
রচনা বলেন, “দিদির সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে, সেই সম্পর্ক অটুট থাকবে। মানুষ তাঁকে দেখে ভোট দেন, এটা সত্যি। তবে হুগলির মানুষ আমাকে শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নয়, কাজ করার আশায় ভোট দিয়েছেন। গত ১৫ বছরে যে উন্নয়ন হয়নি, সেই কাজ করতেই আমি নির্বাচিত হয়েছি। আর সেই কাজের জন্য কেন্দ্রের সমর্থন অত্যন্ত প্রয়োজন।”
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, সম্প্রতি ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-এর ছাতার তলায় একজোট হওয়া বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় নিজের নামও রয়েছে বলে লোকসভার সচিবালয়কে জানিয়েছেন রচনা। যদিও গত রবিবার বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠকের পর প্রকাশ্যে তাঁর নাম সামনে আসেনি, ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছিল।
সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার লোকসভার সচিবালয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকগুলি ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে উঠে আসা এনসিপিআই নিয়েও কৌতূহল বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি দলটি ‘নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল’ বা ‘রেজিস্টার্ড আনরিকগনাইজড পলিটিক্যাল পার্টি’ (আরইউপিপি) হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এখন সেই দলের ব্যানারেই তৃণমূলের একাংশ সাংসদ নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ার পথে হাঁটছেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।
রচনার এই পদক্ষেপে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দলে যোগদানের ঘোষণা না করলেও, দিল্লিতে তাঁর একের পর এক বৈঠক এবং লোকসভার সচিবালয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার ঘটনাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal