Breaking News

জুঁইয়ের প্রণাম, কাজরীর শুভেচ্ছা, মঞ্চে ফিরহাদ-মালা—কলকাতা পুরসভায় শুভেন্দুকে ঘিরে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সৌজন্যের ছবি!

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-কলকাতা পুরসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিকে ঘিরে সোমবার দেখা গেল এক ভিন্ন রাজনৈতিক ছবি। তাঁর আগমনের আগেই পুরসভার মূল প্রবেশদ্বারের সামনে জড়ো হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক পরিচিত মুখ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, প্রাক্তন চেয়ারপার্সন মালা রায়, কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, জুঁই বিশ্বাস, দেবাশিস কুমার, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে।
পুরসভায় প্রবেশ করার সময় মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রথম সারিতেই দেখা যায় কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। হাসিমুখে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। একই সময়ে কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাসকে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রণাম করতেও দেখা যায়। অন্যদিকে, দীর্ঘক্ষণ শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন দেবাশিস কুমার। পরে ইশারায় ফোনে যোগাযোগের কথাও তিনি জানান বলে উপস্থিতদের একাংশের দাবি।
এরপর অনুষ্ঠানের মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। তবে শুভেন্দু কোনও প্রতিক্রিয়া না দিয়েই মঞ্চের দিকে চলে যান।
মঞ্চের কাছাকাছি পৌঁছে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে দেখে তাঁকে সরাসরি মঞ্চে ওঠার আমন্ত্রণ জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইভাবে মালা রায়কেও মঞ্চে বসার অনুরোধ করেন তিনি। ফলে অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে শুভেন্দুর পাশেই বসতে দেখা যায় ফিরহাদ, মালা রায়, সন্দীপন সাহা-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতাকে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দৃশ্য সাম্প্রতিক বাংলার রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ অতীতে রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সরকারি অনুষ্ঠানে বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি খুব একটা দেখা যেত না। সেই তুলনায় এ দিনের অনুষ্ঠান ছিল ব্যতিক্রমী। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক মঞ্চে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় নতুন রাজনৈতিক বার্তা খুঁজছেন অনেকে।এদিন প্রাক্তন কাউন্সিলারেরা এসেছেন অনুষ্ঠানে। সেই বিষয়ে প্রশ্ন করতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসক ডেকেছে সবাইকে। আমরা সবাইকে নিয়ে উন্নতি করতে চাই।’ রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর থেকে যে কয়েকটা প্রশাসনিক সভা হয়েছে, সেগুলিতে দল না দেখে বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছে। বহু তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদ সেই প্রশাসনিক সভায় গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই রাজনীতিতে কেবলমাত্র নির্বাচনের সময় হোক।’ তাঁর সংযোজন, ‘কোনও বিধায়ক যদি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান, আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করব না? দল দেখব? পুর কমিশনার গ্রুপে দিয়েছেন, সেখানে প্রাক্তন কাউন্সিলারেরাও রয়েছেন। তাঁরা জেনে এসেছেন… এটাই স্বাভাবিক।’

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *