নিজস্ব সংবাদদাতা :-দিল্লির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের শিবিরে নাম লেখানোর পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে তাঁর বৈঠক ঘিরে জোরদার হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। লোকসভার অন্দরমহলে বদলে যাওয়া সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকেই।শনিবার দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকের পর সরাসরি অমিত শাহর বাসভবনে যান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, প্রায় আধঘণ্টা ধরে দু’জনের মধ্যে একান্ত আলোচনা হয়। যদিও বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি সুদীপ।
রাজনৈতিক সূত্রে খবর, আগামী সোমবার তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারে। তার আগেই সুদীপের শাহ-সাক্ষাৎকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষত, দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই প্রবীণ সাংসদের আচমকা অবস্থান বদল অনেককেই বিস্মিত করেছে।
ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ১৯ জন বিক্ষুব্ধ শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সেই তালিকায় যেমন রয়েছেন একাধিক নবাগত সাংসদ, তেমনই রয়েছেন দলের পুরনো ও পরিচিত মুখরাও। তবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ এবং একসময় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য নেতার এই শিবিরে যোগদান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।একসময় লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতার দায়িত্বে থাকা সুদীপ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সেই পদ ছাড়ার পর ধীরে ধীরে দিল্লির রাজনীতিতে অনেকটাই আড়ালে চলে যান। পরবর্তীতে সেই দায়িত্ব পান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সেই অধ্যায়ের প্রভাবও বর্তমান অবস্থান পরিবর্তনের নেপথ্যে থাকতে পারে।
তবে সব জল্পনার কেন্দ্রে এখন একটাই প্রশ্ন— বিক্ষুব্ধ শিবিরে যোগ দেওয়ার পরপরই কেন অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়? সেই উত্তর খুঁজতেই এখন ব্যস্ত তৃণমূলের অন্দরমহল থেকে দিল্লির রাজনৈতিক করিডর।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal