Breaking News

আপাতত জেলমুক্তি নয়,সুজিত বসুর জামিন মামলায় ইডির হলফনামা তলব কলকাতা হাইকোর্টের!

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:- পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলে প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। জামিন মামলায় সোমবারও মিলল না অন্তর্বর্তী জামিন। তার ফলে আজও স্বস্তি পেলেন না সুজিত।
বরং মামলায় পালটা যুক্তি দিতে চায় ইডি। আগামী ২৯ জুনের মধ্যে ইডিকে পালটা যুক্তি দিতে সময় দিল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। আগামী ১ জুলাই দুপুর দুটোয় মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা।সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে সুজিত বসু জামিনের মামলা ওঠে। ইডির তরফে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। সুজিত বসুর হয়ে এদিন হাই কোর্টে সওয়াল করেন অভিষেক মনু সিংভি। তিনি ইডির দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর সওয়াল, “গত ২০২৩ সালের ইডি মামলা। প্রায় সাড়ে তিন বছর তদন্তে ডাকেনি ইডি। জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব সামলেছেন মক্কেল। দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২৬ সালের মে মাসে দু’বার তাঁকে তলব করা হয়। দ্বিতীয় হাজিরার দিন গত ১১ মে গ্রেপ্তার করা হয় সুজিতকে। গ্রেপ্তারির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।” ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী পালটা মামলা সংক্রান্ত জবাবদিহি দেওয়ার সময় চান। আগামী ২৯ জুনের মধ্যে ইডিকে জবাবদিহির সময় দিয়েছে হাই কোর্ট।
আদালতে সুজিত বসুর পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। শুনানিতে সুজিত বসুর গ্রেফতারির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর যুক্তি, প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী ইতিমধ্যেই ৬৫ দিন ধরে জেল হেফাজতে রয়েছেন। অথচ সিবিআই-এর মূল চার্জশিট কিংবা অতিরিক্ত চার্জশিটের কোথাও সুজিত বসুর নাম উল্লেখ নেই। পুরো নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর আসল ভূমিকা ঠিক কী, তাও এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তের সহযোগিতার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে কখনও ডাকেনি এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করা বা অসহযোগিতার কোনও অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে নেই। ইসিআইআর (ECIR) দায়ের হওয়ার পর গত তিন বছরে সিবিআই বা ইডির সমান্তরাল তদন্ত চলাকালীন সুজিত বসুকে একবারের জন্যও ডাকা হয়নি। তিনি পলাতকও ছিলেন না, তাই তথ্যপ্রমাণ নষ্ট বা সাক্ষী প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলা অবান্তর।অন্যদিকে, জামিনের বিরোধিতায় ইডির পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয় যে, এই মামলায় মোট ২৯টি বেআইনি নিয়োগের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, চারজন এজেন্টের নাম উল্লেখ করে মোট ১৫০ জনের বেআইনি ও ভুয়ো নিয়োগের সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তিন বছর ধরে চলা তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অকাট্য তথ্যপ্রমাণ মেলার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি ইডির| উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী ২৯ জুনের মধ্যে ইডিকে এই মামলার প্রেক্ষিতে আদালতে নিজেদের হলফনামা জমা দিতে হবে। এরপরের ২ দিনের মধ্যে সুজিত বসুর পক্ষ থেকে সেই হলফনামার পাল্টা জবাব বা রিপ্লাই দেওয়া যাবে। আগামী ১ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *