দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- কলকাতা পুরসভার নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্পষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার কলকাতা পুরসভার স্বচ্ছতা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ছ’মাসের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হবে এবং ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নবনির্বাচিত বোর্ড গঠন করা হবে। ফলে ডিসেম্বরের শুরুতেই কলকাতার নাগরিকরা নতুন পুরবোর্ড বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে কার্যত ইঙ্গিত মিলেছে।
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই পুরসভার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের বোর্ডকে প্রশাসনিক দায়িত্ব ধরে রাখার সুযোগ দেওয়া হলেও তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর কথায়, “কলকাতা পুরসভা বন্ধ করে রাখা যায় না। নাগরিক পরিষেবা অব্যাহত রাখতেই হয়। সেই কারণেই প্রশাসক নিয়োগ করতে বাধ্য হয়েছি।”এদিন তৃণমূলের অন্দরে মেয়র নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু। তিনি বলেন, “সবাই যদি মেয়র হতে চান, তাহলে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। কলকাতা পুরসভার নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। বিশাল এই নগর প্রশাসনের সঙ্গে বহু ইতিহাস জড়িয়ে আছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও একসময় এই পুরসভার মেয়র ছিলেন। সেই ঐতিহ্য কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ হতে দিতে পারি না।”
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের এপ্রিল-মে মাসেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে সেই নির্বাচন পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ডিসেম্বর মাসে কলকাতা পুরসভার ভোটগ্রহণ হয়। ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৭টিতে জয়লাভ করে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুরবোর্ড গঠন করেছিল। যদিও সেই সময় বিরোধী দলগুলি ভোটে ব্যাপক ছাপ্পা, রিগিং এবং সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছিল।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই কলকাতা পুরসভাকে ঘিরে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। একাধিক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে, বেশ কয়েকজন গ্রেফতারও হন। পাশাপাশি তৃণমূলের বহু কাউন্সিলর স্বাধীনভাবে কাজ করতে না-পারার অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। সেই আবহেই মেয়র ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগ করেন বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়।
মেয়রের ইস্তফার পর পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর পুরসভার কাছে জানতে চেয়েছিল, নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু না হলে কেন বোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না। তিন দিনের মধ্যে নতুন মেয়রের নাম জানাতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এরপরই কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসকের হাতে দায়িত্ব তুলে দেয় রাজ্য সরকার।
সোমবারের ঘোষণার পর স্পষ্ট, কলকাতার রাজনৈতিক লড়াইয়ের পরবর্তী বড় ময়দান হতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। আগামী কয়েক মাসে শহরের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal