Breaking News

‘ঘুরতে নয়, আমি উন্নয়ন করতে আসব!’ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম পাহাড় সফরে উন্নয়নের ঝাঁপি খুললেন শুভেন্দু

প্রসেনজিৎ ধর :-মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার পাহাড় সফরে গিয়ে উন্নয়ন ও স্বচ্ছ প্রশাসনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কার্শিয়াঙের মন্টেভিট ময়দানে জনসভা থেকে পাহাড়ের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। ১ জুলাই থেকে জি-রামজি প্রকল্পের কাজ শুরু, কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, পুলিশে দ্রুত নিয়োগ-সহ একাধিক বিষয়ে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।সভা থেকে শুভেন্দু বলেন, “পাহাড়ের মানুষ বছরের পর বছর বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। আমি এখানে ঘুরতে নয়, কাজ করতে এসেছি।”
উত্তরবঙ্গে বিজেপির ধারাবাহিক সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে পাহাড়ে পদ্মফুলের প্রতি মানুষের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। তাই নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি একে একে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে সড়কপথে কার্শিয়াঙে যান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে পাহাড়ের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার কথা। সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে পাহাড়ের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বার্তাও দেওয়া হয় মঞ্চ থেকে।
চা-শ্রমিকদের জীবনযাত্রার উন্নয়ন নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে চালু হওয়া ‘পিএম চা-শ্রমিক যোজনা’ আগের সরকারের আমলে সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি। বর্তমানে বন্ধ থাকা ২৫টি চা-বাগানকে ঘিরে ৩৩৪ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত শুরু করা হবে। চা-বাগান এলাকাগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
একইসঙ্গে আগের সরকারের বিরুদ্ধে পাহাড়কে বঞ্চিত করার অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে উন্নয়নের পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি বদলে উন্নয়নকেই অগ্রাধিকার দিতে চায়।
জিটিএ-র আর্থিক অনিয়ম নিয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দুর্নীতির কোনও জায়গা নেই। অতীতে কোথাও অনিয়ম হয়ে থাকলে তার তদন্ত হবে। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।” পাশাপাশি পাহাড়ের সমস্ত বন্ধ চা-বাগান ধাপে ধাপে চালু করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
কার্শিয়াঙের সভা থেকে শুভেন্দুর বার্তা স্পষ্ট—পাহাড়ে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ প্রশাসনকে সামনে রেখেই এগোতে চায় রাজ্য সরকার। পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *