দেবরীনা মণ্ডল সাহা:-পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে শনিবার হুগলির তারকেশ্বর যেন পরিণত হয়েছিল উৎসবের শহরে। রাজ্যজুড়ে প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এদিন বাংলায় আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । সভাস্থলে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আবহ, উপচে পড়েছিল মানুষের ভিড়। গোটা এলাকা ঘিরে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।বিকেল চারটের কিছু পরে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার তারকেশ্বরে অবতরণ করে। তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চে পৌঁছলে ‘বন্দে মাতরম’-এর সুরে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেওয়া হয়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী এবং বিজেপি নেতৃত্ব।অনুষ্ঠানে বাংলার ঐতিহ্যের ছোঁয়াও ছিল স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বাংলার বিখ্যাত রসগোল্লার হাঁড়ি ও জলভরা সন্দেশ। পাশাপাশি তারকেশ্বরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে শিবলিঙ্গ এবং ডোকরার দুর্গামূর্তি উপহার দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবারই প্রথম ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে সরকারিভাবে পালন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার এই দিনটিকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, হুগলির জিরাটে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটের সংস্কার করা হবে। সেখানে স্মৃতিসৌধ ও গ্রন্থাগার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। আগামী ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি স্থাপনের জন্য নির্ধারিত জমিতে ভূমিপুজোও করা হবে বলে জানান তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চ থেকেই উন্নয়ন এবং ইতিহাস— দুই বার্তাকেই সমান গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। কৃষি, পরিকাঠামো, রেল, স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত গতিতে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি।গত ৯ মে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ব্রিগেডে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরবর্তী সময়ে রাজ্যে চালু হওয়া বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের প্রসঙ্গও এদিন উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, অন্নপূর্ণা যোজনা-সহ একাধিক উদ্যোগের উল্লেখ করে তিনি বাংলাতেই প্রশ্ন করেন, “পরিবর্তন ভাল লাগছে তো?”পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে পৃথক রাজ্য করার যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল, তার পিছনে শ্যামাপ্রসাদের দূরদর্শী নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।একইসঙ্গে স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের পূর্ববর্তী সরকারগুলি তোষণের রাজনীতি করেছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বাংলার সাংস্কৃতিক ও জাতীয়তাবাদী ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে আবারও দেশের অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।ইতিহাসের স্মৃতি, বাংলার ঐতিহ্য এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি— এই তিনের মেলবন্ধনেই পশ্চিমবঙ্গ দিবসের প্রথম সরকারি উদযাপনে তারকেশ্বর থেকে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal