Breaking News

তারাতলার ভয়াবহ গুদাম বিপর্যয়ে মৃত বেড়ে ১১! ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা, ক্যামেরা নামিয়ে তল্লাশিতে সেনা

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-তারাতলার ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১। বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকে টানা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সেনা, এনডিআরএফ, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার সকালেও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের খোঁজে অভিযান চললেও প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে উদ্ধারকাজে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটে।
উদ্ধারকারীরা ধসে পড়া কাঠামোর বিশাল লোহার অংশ সরাতে হাইড্রোলিক ক্রেন ব্যবহার করছিলেন। কিন্তু বজ্রপাতের ঝুঁকির কারণে দীর্ঘক্ষণ সেই কাজ চালানো সম্ভব হয়নি। ফলে কিছু সময়ের জন্য থমকে যায় উদ্ধার অভিযান। তা সত্ত্বেও ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কায় সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ এবং অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উদ্ধারকাজে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিরও ব্যবহার শুরু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ফাঁকফোকরে বিশেষ ক্যামেরা পাঠিয়ে ভিতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ল্যাপটপে সেই ছবি বিশ্লেষণ করে কোথাও শ্রমিক আটকে রয়েছেন কি না, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত হওয়ার পর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ কাটার কাজ এগোচ্ছে।
উদ্ধারকারী বাহিনীর দাবি, ধসে পড়া কাঠামোর ভিতর থেকে মাঝেমধ্যেই শব্দ শোনা যাচ্ছে। সেই কারণেই এখনও আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকারীরা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান।বুধবার দুপুরে ব্রেসব্রিজ এলাকার নির্মীয়মাণ গুদামের বিশাল লোহার কাঠামো আচমকাই ভেঙে পড়ে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় সেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে লোহার বিম ও নির্মাণসামগ্রীর নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, দমকল এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদের। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ভারী যন্ত্রপাতি, গ্যাস কাটার এবং বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জাম।
এদিকে, দুর্ঘটনার নেপথ্যে নির্মাণে গাফিলতি বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ইতিমধ্যেই গুদাম মালিক শম্ভুনাথ বেহেরাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে সুপারভাইজার ও শ্রমিক সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, নির্মাণের নকশা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কাজের মান সংক্রান্ত একাধিক অনিয়মের সূত্র মিলতে পারে।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক ১৯ বছরের পরিযায়ী শ্রমিকও। তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নিজ গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এখনও বহু শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় প্রহর গুনছেন। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ জীবিত অবস্থায় আটকে রয়েছেন কি না, সেই আশাতেই অব্যাহত রয়েছে উদ্ধার অভিযান।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *