Breaking News

আরজি কর মামলায় CBI-এর ভূমিকা নিয়ে আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ! ‘গা-ছাড়া মনোভাব’ প্রসঙ্গে তীব্র অসন্তোষ,CID তদন্তের সওয়াল

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-আরজি কর কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রায় দেড় বছর পরেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার ডিভিশন বেঞ্চে প্রশ্নের মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে এদিন মামলার শুনানি চলাকালীন সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে একাধিক কড়া মন্তব্য করা হয়।
আদালতের নির্দেশে এদিন তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই। রিপোর্টে জানানো হয়, আদালতের নির্দেশ মেনে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। তবে সেই রিপোর্টে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। বিচারপতি শম্পা সরকার মন্তব্য করেন, আদালতের নির্দেশের প্রকৃত অর্থই বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে সিবিআই। তাঁর প্রশ্ন, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে? একইসঙ্গে তিনি জানতে চান, নিহত চিকিৎসকের পরিবারের অভিযোগগুলিকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুনানিতে আদালত স্মরণ করিয়ে দেয়, গত বছরের ৭ অক্টোবর প্রাথমিক চার্জশিট দাখিলের পর থেকে দীর্ঘ ১ বছর ৭ মাস কেটে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, “চার্জশিট জমা দেওয়ার পর এতদিন ধরে ঠিক কী তদন্ত করল সিবিআই?”
এর জবাবে সিবিআই জানায়, তদন্ত থেমে নেই। ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “চার্জশিট জমা দিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নির্যাতিতার পরিবারের দাবিগুলিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।”
সিট গঠন নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। হাইকোর্টের নির্দেশে নতুন সিট তৈরি হলেও তাদের রিপোর্টে নতুন কোনও তদন্তমূলক তথ্য নেই বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা। পুরনো তথ্যই আবার আদালতে জমা দেওয়ায় তদন্তকারীদের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। বিচারপতি শম্পা সরকার সরাসরি বলেন, “এই মামলায় সিবিআই গা-ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে।”এদিন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ আরও কড়া সুরে বলেন, “তদন্ত কবে শেষ হবে? প্রয়োজন হলে এই মামলা সিবিআইয়ের হাত থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হতে পারে।” একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন না হলে তা আদেশনামায় উল্লেখ করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অন্যদিকে, নিহত চিকিৎসকের পরিবারের আইনজীবী সওয়াল করেন, সিবিআই তদন্তে অগ্রগতি না হলে মামলাটি সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হোক। যদিও বিচারপতি শম্পা সরকার জানান, আদালত এখনও সিবিআইয়ের উপর আস্থা রাখছে এবং আশা করছে তারা সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করবে। ফলে আপাতত আরজি কর কাণ্ডের তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতেই থাকছে। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, নতুন সিটে পূর্ববর্তী তদন্তকারীদের রাখা যাবে না এবং আদালতের নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করতে হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *