Breaking News

‘কাউকে রেয়াত করা হবে না’! তারাতলা কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দুর সরকারের , কালো তালিকাভুক্ত নির্মাণ সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট আর্কিটেক্ট

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-তারাতলার মর্মান্তিক বিপর্যয়ের নেপথ্যে গাফিলতির অভিযোগে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। নির্মাণকারী সংস্থা ‘আয়ান ট্রেডার্স’ এবং সংশ্লিষ্ট আর্কিটেক্ট ও প্ল্যানারকে কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) করার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ময়দানের পিডব্লুউডি (PWD) টেন্টে সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি জানান, নিয়মভঙ্গ এবং দায়িত্বে অবহেলার কোনও ঘটনাই সরকার বরদাস্ত করবে না। একইসঙ্গে তিনি জানান, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলা উদ্ধারকাজ শুক্রবারই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গোডাউনের নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদিত থাকলেও কাজের প্রতিটি ধাপে যথাযথ নজরদারি করার দায়িত্ব ছিল নির্মাণকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্ল্যানার-আর্কিটেক্টের। কিন্তু সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা হয়নি। বরং নজরদারির দায়িত্ব অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়ায় গোটা নির্মাণকাজ কার্যত তদারকি ছাড়াই চলেছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
শুধু এই ঘটনাই নয়, ভবিষ্যতেও বেআইনি বা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে নির্মাণকাজ চালানো সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় আবাসন বা বহুতলের প্ল্যান সংক্রান্ত প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে সাধারণ মানুষকে নিকটবর্তী থানায় অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশকে দ্রুত কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পোস্তা ও গার্ডেনরিচের অতীতের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
জানা গিয়েছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩০ বছরের লিজে জমি নিয়েছিলেন শম্ভুনাথ বেহরা। সেই জমিতে গোডাউন নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বন্দর এলাকার সংস্থা আয়ান ট্রেডার্স-কে। সরকারি তদন্তে প্রাথমিকভাবে নির্মাণে গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসতেই সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আর্কিটেক্টকে ব্ল্যাকলিস্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন। ঘটনার পরই উদ্ধারকাজে নামে পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনী। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের কাজ চালানো হয়। এখনও পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, আহত হয়েছেন ৩৩ জন। ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুক্রবারের মধ্যেই উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *