Breaking News

তারাতলা কাণ্ডে নড়েচড়ে প্রশাসন! ‘জি+৫’ নির্মাণে সাময়িক ব্রেক, ত্রুটিপূর্ণ নকশা বাতিলে কড়া বার্তা সরকারের

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- গার্ডেনরিচ ও তারাতলার মতো একের পর এক নির্মাণ বিপর্যয়ের পর বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। নির্মীয়মাণ বেসরকারি বাণিজ্যিক বহুতলের নিরাপত্তা ও নির্মাণমান খতিয়ে দেখতে কলকাতা-সহ একাধিক পুর এলাকায় আপাতত এক মাসের জন্য জি+৫ বা তার বেশি উচ্চতার বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ১১ সদস্যের অডিট কমিটি এই সময়ের মধ্যে বহুতলগুলির নকশা, নির্মাণ পদ্ধতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করবে। গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সরকারি অনুমোদন বাতিল পর্যন্ত করা হতে পারে।
শুক্রবার পিডব্লুডি টেন্টে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কলকাতা পুর এলাকা, বিধাননগর, রাজারহাট, নিউটাউন, পূজালি, বারুইপুর, মহেশতলা, রাজপুর-সোনারপুর, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর এবং বালি এলাকায় আগামী এক মাস বেসরকারি বাণিজ্যিক বহুতল নির্মাণ বন্ধ থাকবে। অডিট কমিটির ছাড়পত্র মিললেই আগামী ১ অগস্ট থেকে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে।
সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অডিট কমিটি প্রথমে প্রতিটি বহুতলের ব্লু-প্রিন্ট বা অনুমোদিত নকশা খতিয়ে দেখবে। নকশা বা নির্মাণে বড়সড় গাফিলতি ধরা পড়লে সেই প্রকল্পের সরকারি অনুমোদন বাতিল করা হবে। তবে ত্রুটি যদি সংশোধনযোগ্য হয়, তাহলে নির্মাণ সংস্থাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা ঠিক করার সুযোগ দেওয়া হবে।সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নগরায়ণ আটকানো সরকারের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু মানুষের জীবনের মূল্য সবচেয়ে বেশি। তাই নির্মাণকাজ আইন মেনে এবং নিরাপত্তার সমস্ত নিয়ম অনুসরণ করে হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।”তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র বেসরকারি বাণিজ্যিক বহুতলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সাধারণ মানুষের বসতবাড়ির সংস্কার, মেরামতি বা ছোটখাটো নির্মাণকাজের উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা থাকছে না।তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে অডিট কমিটির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে সরকার। আগামী ৭ দিনের মধ্যে বহুতলগুলির নকশা সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এরপর ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো, শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি-সহ অন্যান্য নিরাপত্তা বিষয় খতিয়ে দেখে ৯০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।রাজ্য সরকারের আশা, এই বিশেষ স্বাস্থ্যপরীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নির্মাণ সংক্রান্ত দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে এবং নিরাপদ নগরায়ণের পথে আরও এক ধাপ এগোনো যাবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *