প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-ওড়িশা ও অসম যখন গত কয়েক বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পশ্চিমবঙ্গকে টপকে এগিয়ে গিয়েছে, তখন বাংলাকে ফের দেশের বাণিজ্যিক মানচিত্রে প্রথম সারিতে ফিরিয়ে আনতে একাধিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের রূপরেখা তুলে ধরল রাজ্য সরকার। শুক্রবার একাধিক বণিকসভাকে নিয়ে হওয়া বাণিজ্য সম্মেলনে একাধিক শিল্পক্ষেত্রে মোট ১৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এ প্রসঙ্গে আশাবাদী অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘বেঙ্গল ইজ ব্যাক উইথ এ ব্যাং।” তবে একইসঙ্গে তিনি অকপটে স্বীকার করে নেন, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পপতি— সকলেরই নানা অসন্তোষ জমে ছিল। সেই কারণেই বাংলা কার্যত একটি ‘অখুশি রাজ্যে’ পরিণত হয়েছিল। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে সরকার।
সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ওড়িশা শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গকে আবার প্রতিযোগিতায় ফিরতে হলে ওড়িশার সঙ্গে সরাসরি টক্কর দিতেই হবে। তাঁর দাবি, বর্তমানে রাজ্যে ব্যবসা ও শিল্পের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “অনেকে বলেছেন, এটা রাজ্যের নয়, কেন্দ্রের বাজেট। কিন্তু বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সহযোগিতা রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠীর বিদায়ের পর পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নে যে দীর্ঘস্থায়ী ধাক্কা লেগেছিল, তার প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। সেই শিল্পহীনতার ক্ষত মুছে নতুন করে বিনিয়োগ টানাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। অর্থমন্ত্রী জানান, শুক্রবারের শিল্প সম্মেলনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ১,৬০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। তাঁর কথায়, “বাংলা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এবার নতুন উদ্যমে শিল্পের পথে এগোবে রাজ্য।”
অতীতের প্রসঙ্গ টেনে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “আজকের বাংলায় সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পপতি— সকলেরই কিছু না কিছু অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণেই রাজ্য একসময় অখুশি রাজ্যে পরিণত হয়েছিল। এখন সেই পরিস্থিতি বদলাতে দ্রুত পদক্ষেপ করছে সরকার।” শিল্পপতিদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে ঠিকই, তবে বাংলার প্রকৃত ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ হবেন ব্যবসায়ীরাই। তাঁদের হাত ধরেই নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের পথ খুলবে।
এদিন শিল্পমহলের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ‘ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্ট’ আরও সরল করার ইঙ্গিতও দেন অর্থমন্ত্রী।
সম্মেলনে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা সঞ্জীব স্যান্যালও বাঙালিদের ব্যবসা নিয়ে প্রচলিত ধারণার বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, “বাঙালিরা ব্যবসা করতে পারে না— এই ধারণা ভুল। বরং বলা ভালো, বাঙালিরা ব্যবসা করতে চায় না। অথচ ব্যবসা করার ঐতিহ্য এবং দক্ষতা বাঙালির রক্তেই রয়েছে।”
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal