দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-কলকাতার বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সে পঞ্চম বিশ্ব এমএসএমই দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন। পাশাপাশি আইটিআই শিক্ষার আধুনিকীকরণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট’-এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ‘সেতু যোজনা’কে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যের কারিগরি শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই প্রেক্ষিতে তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্যের ৫১টি আইটিআই কলেজকে শিল্প সংস্থার অংশীদারিত্বে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বেসরকারি কর্পোরেট গোষ্ঠীর বিনিয়োগের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণের মান এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী পাঠক্রম আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। দেশের অন্যান্য রাজ্যের মডেল অনুসরণ করে টাটা-সহ প্রথম সারির শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই আইটিআইগুলি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারের বর্তমান কার্যকাল প্রসঙ্গে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের সরকার এখনও একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে, ধীরে ধীরে আরও বড় এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”বক্তৃতায় তিনি বিগত বামফ্রন্ট ও তৃণমূল সরকারকেও একযোগে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা অবহেলার শিকার হয়েছে, যার প্রভাব আজও শিক্ষাব্যবস্থায় স্পষ্ট।
রাজ্যের অতীত রাজনৈতিক স্লোগান নিয়েও কটাক্ষ করেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “একসময় মানুষকে শেখানো হয়েছিল ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’। পরে আবার বলা হয়েছে ‘খাবার খাবার খাবার চাই, খাবার খেয়ে বাঁচতে চাই’।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীর ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তবে বর্তমান সরকার দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও শিল্পমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি বদলাতে বদ্ধপরিকর।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal