Breaking News

সকালে স্ত্রীর গলা কাটা দেহ উদ্ধার রিষড়া নতুন গ্রামের বাড়ি থেকে, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী স্বামী!

প্রসেনজিৎ ধর :- হুগলির রিষড়ায় ভাড়াবাড়িতে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামী দীপঙ্কর সরকারের বিরুদ্ধে। এরপর কলকাতার বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে মেট্রোর লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি। শনিবার সকালে রিষড়া থানার ৩ নম্বর গভর্মেন্ট কলোনি প্রাথমিক স্কুল সংলগ্ন একটি ভাড়াবাড়ি থেকে ৩১ বছরের মণিকা সরকার (ওঝা)-র রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতার গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন ছিল।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছয় বছরের কন্যাসন্তানকে নিয়ে মণিকা রিষড়ার ভাড়াবাড়িতে থাকতেন মণিকা| স্বামী দীপঙ্কর সরকার কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকতেন এবং বছরে দু-একবার বাড়ি ফিরতেন। শুক্রবারই তিনি দিল্লি থেকে বাড়ি ফেরেন। ওই রাতেই দম্পতির মধ্যে তীব্র অশান্তি ও চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন প্রতিবেশীরা।

শনিবার সকালে মেয়ের গৃহশিক্ষক বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করলেও কোনও সাড়া না মেলায় প্রতিবেশীরা গেটের তালা ভেঙে ঘরে ঢোকেন। সেখানে বিছানার উপর মণিকার রক্তাক্ত দেহ এবং পাশেই অক্ষত অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকা তাঁদের ছয় বছরের কন্যাকে দেখতে পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করে রিষড়া থানার পুলিশ।
এদিকে, শনিবার দুপুরে বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে এক ব্যক্তি মেট্রোর লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনার জেরে দমদম থেকে গিরিশ পার্ক পর্যন্ত আপ ও ডাউন—দুই লাইনের মেট্রো পরিষেবা কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। পরে চন্দননগর পুলিশ নিশ্চিত করে, মৃত ব্যক্তি আর কেউ নন, মণিকার স্বামী দীপঙ্কর সরকার। শ্রীরামপুরের ডিসি অর্ণব বিশ্বাস জানান, মণিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া এফআইআরে অভিযুক্ত হিসেবে দীপঙ্করের নাম ছিল এবং তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। এর মধ্যেই তাঁর আত্মহত্যার খবর আসে।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন দীপঙ্কর। সেই সন্দেহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন তিনি। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে তদন্তকারীদের ধারণা, প্রথমে শ্বাসরোধ করে মণিকাকে হত্যা করা হয়, তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ঘরে একটি শাড়িও ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে, যার সূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তবে এই জোড়া মৃত্যুর নেপথ্যে শুধুই পরকীয়ার সন্দেহ, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রিষড়া ও উল্টোডাঙা থানার পুলিশ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দুই মৃতদেহই ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *