নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা :-তারাতলার মর্মান্তিক বিপর্যয়ের পর দুর্ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালের মর্গ— সর্বত্রই এখন শোক আর কান্নার আবহ। ধ্বংসস্তূপ সরানোর সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক দেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭। কংক্রিটের বিশাল স্তূপের নীচে শুধু শ্রমিকদের প্রাণই চাপা পড়েনি, মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে বহু নিম্নবিত্ত পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্নও। যাঁরা সংসারের হাল ধরতে ভিনরাজ্য থেকে কলকাতায় এসেছিলেন, তাঁদের অনেকেই আর ফিরতে পারবেন না নিজের ঘরে।
গত বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তারাতলার নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক বহুতলের একটি বড় অংশ। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। খবর পেয়েই উদ্ধারকাজে নামে পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলে উদ্ধার অভিযান। অনেককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বহু শ্রমিককে আর বাঁচানো যায়নি।
পেটের দায়ে ও পরিবারের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দিতে বিহারের মুঙ্গের থেকে একই পরিবারের ছয় সদস্য কাজের সন্ধানে এসেছিলেন কলকাতায়। কিন্তু সেই স্বপ্নই মুহূর্তে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। তারাতলার ওই নির্মীয়মাণ বহুতলে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারান পরিবারের তিন ভাই।
দুর্ঘটনার মুহূর্তেই মৃত্যু হয় ঘি কুমারের। এরপর বুধবার গভীর রাতে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর ভাই মন্নু কুমারকে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি, চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। তৃতীয় ভাই শিরচাঁদ কুমারের খোঁজ দীর্ঘ সময় মেলেনি। অবশেষে তাঁর দেহ উদ্ধার হলেও সেটি এতটাই ক্ষতবিক্ষত ছিল যে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরে তাঁর পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্রেই আত্মীয়রা দেহ শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের পর তিন ভাইয়ের দেহ বিহারের মুঙ্গেরে পাঠানো হবে। একই পরিবারের বাকি তিন সদস্য এখনও গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal