প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-কামারহাটি পুরসভা কি সত্যিই বিজেপির দখলে? এই জল্পনার মধ্যেই দলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাদা তথা নির্দল কাউন্সিলর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের চেয়ারম্যান হওয়াকে কেন্দ্র করে যে প্রচার শুরু হয়েছে, তাতে কার্যত জল ঢেলে দিলেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, কোনওভাবেই ‘দখলদারির রাজনীতি’কে প্রশ্রয় দেবে না বিজেপি। একইসঙ্গে কামারহাটির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত রিপোর্টও তলব করেছেন তিনি।
সোমবার ভারত কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। সেখানেই দলের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “যে কেউ এসে নিজেকে বিজেপির কাউন্সিলর বলে দাবি করবেন, আর দল তা মেনে নেবে—এটা হতে পারে না।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ঘোষণা করলে তা বিজেপি মেনে নেবে না।উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিক পুরসভায় প্রশাসনিক রদবদল দেখা যায়। সেই আবহেই গত ১২ জুন কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর—দুই পদ থেকেই ইস্তফা দেন। এরপর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দীপাংশু ঘোষাল, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মী বিশ্বাস এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামল চক্রবর্তীও কাউন্সিলর পদ ছাড়েন। এর পর থেকেই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাদা তথা নির্দল কাউন্সিলর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নাম সামনে আসে।
গত শুক্রবার বোর্ড বৈঠকে উপস্থিত ২৭ জন কাউন্সিলরের সর্বসম্মত সমর্থনে সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তৃণমূল কাউন্সিলরদের সমর্থনেই তিনি এই পদে বসেন। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রচার শুরু হয় যে কামারহাটি পুরসভা নাকি বিজেপির দখলে চলে গিয়েছে। তবে সেই দাবি কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, কামারহাটির ঘটনাকে ঘিরে কীভাবে এই প্রচার শুরু হল এবং দলের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তীকে বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দলীয় নেতা, বিধায়ক বা মন্ত্রী—কেউই দলের অনুমোদন ছাড়া কোনও রাজনৈতিক অবস্থান ঘোষণা করতে পারেন না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।বিজেপি নেতৃত্বের এই অবস্থানের পর কামারহাটি পুরসভা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা নতুন মোড় নিয়েছে। এখন নজর, রাজ্য সভাপতির চাওয়া রিপোর্টে কী উঠে আসে এবং দল এই বিষয়ে পরবর্তী কী সিদ্ধান্ত নেয়।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal