Breaking News

পুকুর দখলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন স্থানীয়রা, তারপরই হামলার অভিযোগ! শ্লীলতাহানি ও খুনের চেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- বেহালার রবীন্দ্রনগর এলাকার পুকুর দখলকে কেন্দ্র করে বহু বছরের পুরনো অভিযোগে নতুন মোড়। মারধর, শ্লীলতাহানি এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বেহালার ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর অঞ্জন দাস। একই মামলায় ধরা পড়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রোমোটার ভোলা সরকারও। শুক্রবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অঞ্জন দাসকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ।
অভিযোগ, তৃণমূল আমলে রবীন্দ্রনগর এলাকার একটি বড় পুকুর দখল করে ভরাটের চেষ্টা করা হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, ওই দখলদারির নেপথ্যে ছিলেন এলাকার এক প্রোমোটার এবং তাঁকে পূর্ণ মদত দিয়েছিলেন তৎকালীন কাউন্সিলর অঞ্জন দাস। বর্তমানে ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অঞ্জনের স্ত্রী সংহিতা দাস হলেও স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, কার্যত অঞ্জনের নির্দেশেই এলাকায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালিত হত। অভিযোগ আরও, এলাকার প্রোমোটার সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবেও কাজ করতেন তিনি।এই ঘটনায় অঞ্জন দাসের পাশাপাশি বিপ্লব ঘটক, ভোলা সরকার, সন্তু দাস, উৎপল দে, চিত্তরঞ্জন দাস এবং মৃত্যুঞ্জয় দাস-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পর্ণশ্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।অভিযোগকারী সুশান্ত ঘোষের দাবি, পুকুর দখলের বিরুদ্ধে সরব হওয়াতেই তিনি অঞ্জন দাসের রোষের মুখে পড়েন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে মারধর করা হয় এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বিজয়া ঘোষের শ্লীলতাহানিও করা হয়। সেই সময় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও তদন্তে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ।রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের আদালতের দ্বারস্থ হন অভিযোগকারী। আদালতের নির্দেশে মামলার পুনর্তদন্ত শুরু হয়।তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পর্ণশ্রী থানার সাব-ইন্সপেক্টর কুণাল বরাইককে। আদালতের অনুমতি নিয়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৮৩ ধারায় অভিযোগকারী ও তাঁর স্ত্রীর গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় গত ৮ জুলাই। সেই বয়ানের ভিত্তিতে পুরনো মামলায় শ্লীলতাহানি এবং খুনের চেষ্টার ধারা যুক্ত হয়। এরপরই তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ এবং শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে অঞ্জন দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এই মামলায় পুলিশ আলিপুর আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের ৩১ মে অভিযোগকারীর স্ত্রী নতুন করে অভিযোগ দায়ের করলে মামলার পুনর্তদন্তের আবেদন করা হয়। আদালতের নির্দেশ মেনেই ফের তদন্ত শুরু হয় এবং সেই তদন্তের জেরেই প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ।স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে অঞ্জন দাস দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত মুখ। তিনি ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ১৪ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান ছিলেন। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের একাধিক নির্বাচনে মুখ্য নির্বাচনী এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেছিলেন অঞ্জন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর অনেক নেতা-নেত্রী দল ছাড়লেও অঞ্জন দাস নেতৃত্বের সঙ্গেই ছিলেন। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট থেকে হাজরা পর্যন্ত পদযাত্রাতেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। সেই নেতাকেই এবার গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তদন্তে আরও নতুন তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *