প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’কে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। একদিকে ধর্মতলায় ঐতিহ্যবাহী শহিদ দিবসের সভা করতে অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট-তৃণমূল। অন্যদিকে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা করে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির। তাদের দাবি, ২১ জুলাই কলকাতার মেয়ো রোডেই অনুষ্ঠিত হবে তাদের শহিদ দিবসের সমাবেশ।
শনিবার কলকাতার বোট ক্লাবে দলের সাংগঠনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আপাতত দলের প্রধান রাজনৈতিক কর্মসূচি ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস। তিনি বলেন, জওহরলাল নেহরু রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং কর্মসূচিকে সফল করতে সংগঠন জোরকদমে কাজ করছে।দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান প্রতীক। বিরোধী রাজনীতির সময় থেকে শুরু করে ক্ষমতায় থাকাকালীনও ধর্মতলায় লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ ঘটিয়ে এই দিনটিকে শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত করেছিলেন তিনি। তবে এবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক অবস্থাও বদলেছে।
ইতিমধ্যেই কালীঘাট-তৃণমূল ঘোষণা করেছে, অনুমতি মিলুক বা না মিলুক, প্রয়োজন হলে সীমিত সংখ্যক কর্মী-সমর্থককে নিয়েই ধর্মতলার পুরনো জায়গা—ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে—শহিদ দিবস পালন করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সেই কর্মসূচির অনুমতি এখনও মেলেনি। উল্টে ওই এলাকা পরিদর্শন ও মাপজোককে কেন্দ্র করে কুণাল ঘোষ, দোলা সেন-সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। এরপরই সভার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট-তৃণমূল।
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও ২১ জুলাইকে ঘিরে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিদ্রোহী তৃণমূলের নেতাদের দাবি, এ বারের শহিদ দিবস শুধুই স্মরণসভা নয়, সংগঠনের জনভিত্তি ও রাজনৈতিক শক্তিরও বড় পরীক্ষা। ফলে একই দিনে দুই তৃণমূল শিবিরের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal