প্রসেনজিৎ ধর,হুগলি:-‘আমরা আর একটা সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রাম চাই না।’ শিল্পায়নের গতি বাড়াতে এবং অতীতের জমি আন্দোলনের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার রাজ্যের জমি নীতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণে সরকার এবার সরাসরি জমি কিনে তা শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেবে। পাশাপাশি ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে স্থানীয় স্তরের অনুমোদন ও প্রশাসনিক জটিলতা থেকে অনেকটাই মুক্ত রাখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।শনিবার হুগলির ডানকুনিতে লাক্স কোজি ইন্ডাস্ট্রিজের দ্বিতীয় উৎপাদন ইউনিটের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে ১২ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে গড়ে উঠতে চলা এই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। গো-সেবা ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা অশোক টোডিও।সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিল্পায়নের স্বার্থে রাজ্য সরকার নতুন ‘ডাইরেক্ট ল্যান্ড পার্চেস পলিসি’ কার্যকর করেছে। তাঁর কথায়, ‘আমরা ২০১৩ সালের জমি ক্রয় নীতির ভিত্তিতে এগোচ্ছি। আর একটা সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রাম চাই না। তাই সরকারই সরাসরি জমি কিনে শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেবে। বিএসএফ, রেল, নতুন বিমানবন্দর— বিভিন্ন প্রকল্পে যেমন জমি দেওয়া হচ্ছে, তেমনই শিল্পের ক্ষেত্রেও জমি কোনও বাধা হবে না।’শুধু জমির ব্যবস্থাই নয়, বিনিয়োগের পথে প্রশাসনিক জটিলতা কমাতেও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাকে আর পঞ্চায়েত, পুরসভা, কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ বা পঞ্চায়েত সমিতির আলাদা অনুমোদন নিতে হবে না। তাঁর দাবি, অধিকাংশ সমস্যা ও হয়রানির সূত্রপাত স্থানীয় স্তর থেকেই হয়। তাই বৃহৎ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়া হবে ‘সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম’-এর মাধ্যমে। WBIDC, ভূমি দফতর এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ব্যবস্থা করবে।রাজ্য সরকারের দাবি, এই নতুন নীতির ফলে শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে, প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে পশ্চিমবঙ্গ আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal