প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-বাইক রাইডিং ছিল তাঁর প্রবল নেশা। সুযোগ পেলেই বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন দীর্ঘ সফরে। কিন্তু সেই নেশাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল প্রাণ। ওড়িশার চাঁদিপুর থেকে কলকাতায় ফেরার পথে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর লোকাল থানার বালিহাটি এলাকায় জাতীয় সড়কের একটি গর্তে বাইকের চাকা পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মৃত্যু হল দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ার বাসিন্দা, ৪৪ বছরের দেবাহুতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে রবিবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে আটটি বাইকে মোট ১৫ জনের একটি দল ওড়িশার চাঁদিপুর বেড়াতে গিয়েছিলেন। সফর শেষে রবিবার কলকাতায় ফেরার সময় বালিহাটি এলাকায় জাতীয় সড়কের একটি বড় গর্তে দেবাহুতির বাইকের চাকা পড়ে যায়। বাইকের গতি বেশি থাকায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং গুরুতর জখম হন।
দুর্ঘটনার পর সহযাত্রীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে খড়্গপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর তাঁর দেহ ঢাকুরিয়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয়, দুর্ঘটনার সময় একই বাইক রাইডিং দলে ছিলেন দেবাহুতির দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া ছেলে অনিকেত মুখোপাধ্যায়ও। তিনি জানান, “আমি সামনের একটি বাইকে ছিলাম। মা মাঝের দিকে ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে বাইক ঘুরিয়ে তাঁকে উদ্ধার করি এবং হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু আর বাঁচানো যায়নি।”এই ঘটনায় জাতীয় সড়কের বেহাল দশা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই অংশে বড় বড় গর্ত থাকলেও তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খড়্গপুর লোকাল থানার পুলিশ। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি রাস্তার বেহাল অবস্থাও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal