প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-বিধানসভার অন্দরে নজিরবিহীন উত্তেজনার সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি।কালীঘাটপন্থী তথা বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে অধিবেশন চলাকালীন মার্শাল ডেকে হাউস থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। একাধিকবার সতর্ক করার পরও তিনি নিজের আসনে না-ফেরায় শেষ পর্যন্ত মার্শালরা তাঁকে জোর করে অধিবেশনকক্ষের বাইরে নিয়ে যান। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বিধানসভা চত্বরে।মঙ্গলবার ২১ জুলাইয়ের পৃথক সমাবেশ থেকে দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা চলেছিল। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই সংঘাতের রেশ পৌঁছে যায় বিধানসভার অন্দরে। স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক তথা ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান বক্তব্য রাখতে উঠলে তাঁর বক্তৃতায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে।বক্তৃতা শুরু হতেই আখরুজ্জামানের আসনের সামনে গিয়ে কুণাল ঘোষ বারবার প্রশ্ন করতে থাকেন, “আপনি আমার নাম কেটে দিচ্ছেন কেন?” বারবার অনুরোধ ও সতর্কবার্তা সত্ত্বেও তিনি নিজের আসনে ফিরে যাননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন একাধিক বিজেপি বিধায়ক, পরিষদীয়মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এবং উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও। স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, আসনে না ফিরলে তাঁকে হাউস থেকে বের করে দেওয়া হবে।শেষ পর্যন্ত স্পিকারের নির্দেশে মার্শালরা কুণাল ঘোষকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ঠেলাঠেলির মধ্যে একসময় তিনি অধিবেশনকক্ষের মেঝেতে পড়ে যান। পরে মার্শালরা তাঁকে তুলে বাইরে নিয়ে যান। এই ঘটনার প্রতিবাদে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বিধায়কেরা ওয়াকআউট করেন।
ঘটনার পর কুণালের নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “অসভ্যতার একটা সীমা থাকে। আমরাও বিরোধী আসনে ছিলাম, কিন্তু এই ধরনের আচরণ কখনও করিনি। এগুলো বরদাস্ত করা যায় না।”এরপর শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় কুণাল ঘোষকে চলতি অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করার প্রস্তাব দেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আপাতত শুধুমাত্র ওই দিনের জন্যই তাঁকে সাসপেন্ড করা হোক। তাঁর কথায়, “ওকে সাসপেন্ড করে অযথা বিখ্যাত করার দরকার নেই। কাল আসুক, আবার একই আচরণ করলে তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal