প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে শুক্রবার কলকাতার রাজপথে ছাত্র-যুবদের বিশাল বিক্ষোভ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা মিছিলে অংশ নেন বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সিজেপি-র সদস্যরাও। নিট-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।দুপুর প্রায় ৩টা ১০ মিনিটে শিয়ালদহ থেকে মিছিল শুরু হয়। পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে হাজার হাজার ছাত্র-যুবক ধর্মতলার উদ্দেশে এগিয়ে যান। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বারবার বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষাব্যবস্থার উপর আস্থা নষ্ট হচ্ছে। তাই অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে তাঁরা সরব হন। শুক্রবার রাতভর ‘রাত জাগো’ কর্মসূচিরও ডাক দেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যার দিকে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের দিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষের রূপ নেয়। অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আন্দোলনকারীদের একাংশ পাল্টা ইট, জুতো ও বোতল ছুড়তে শুরু করেন। ঘটনাস্থলে ‘চোর চোর’ স্লোগানও ওঠে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়। কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায় পুলিশ। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ধর্মতলার একাধিক ব্যস্ত রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ডোরিনা ক্রসিং চত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এবং এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।উল্লেখ্য, ২৬ দিনের অনশন শেষে বৃহস্পতিবার সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করলেও ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা আন্দোলন এখনও অব্যাহত রয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে কলকাতার এই ছাত্র বিক্ষোভ নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল |
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal