প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- বিধানসভায় একসঙ্গে ২৮টি ক্যাগ (CAG) রিপোর্ট পেশ করল রাজ্য সরকার। শনিবার বাজেট অধিবেশনে রিপোর্টগুলি পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, খুব শীঘ্রই এই রিপোর্টগুলি নিয়ে বিধানসভায় একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হবে। সেখানে প্রতিটি রিপোর্টের পর্যবেক্ষণ, সরকারি খরচের হিসাব এবং বিভিন্ন দফতরের আর্থিক অনিয়ম বা ত্রুটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (CAG) রিপোর্টের বিশেষ সাংবিধানিক গুরুত্ব রয়েছে। এই রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা প্রত্যেক নির্বাচিত সরকারের বাধ্যবাধকতা। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকার দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন কারণে সেই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেনি। ফলে একাধিক ক্যাগ রিপোর্ট বিধানসভায় পেশই করা হয়নি। সেই বকেয়া রিপোর্টগুলিই এবার একসঙ্গে পেশ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু উন্নয়নমূলক কাজের হিসাবই দেবে না, কোথায় কী ত্রুটি হয়েছে, কোথায় সরকারি অর্থ ব্যয়ে গাফিলতি বা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেটাও জনগণের সামনে তুলে ধরা সরকারের দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যেই ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ২৮টি ক্যাগ রিপোর্ট বিধানসভার টেবিলে রাখা হয়েছে। আপাতত রিপোর্টগুলির তালিকা উপস্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তী বিশেষ অধিবেশনে প্রতিটি রিপোর্ট নিয়ে পৃথকভাবে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় আমপান দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ না হওয়া নিরীক্ষা রিপোর্টগুলি সামনে আনা হবে এবং সেগুলি নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা হবে। সেই ঘোষণার পর শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে একসঙ্গে ২৮টি রিপোর্ট পেশ করা হল।
এই রিপোর্টগুলির মধ্যে রাজ্য সরকারের ফিন্যান্স অডিট যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর, স্বাস্থ্য দফতর, ভূমি দফতর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের আয়-ব্যয় ও সরকারি প্রকল্পে অর্থ ব্যবহারের নিরীক্ষা রিপোর্ট। সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, কোথায় নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে এবং কোথায় আর্থিক শৃঙ্খলার অভাব ছিল— সেই সমস্ত বিষয়ই এই রিপোর্টগুলিতে উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ২৮টি ক্যাগ রিপোর্ট ঘিরে আগামী বিশেষ অধিবেশনে তুমুল বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, রিপোর্টগুলির একটি বড় অংশই পূর্বতন সরকারের আমলের বিভিন্ন দফতরের আর্থিক লেনদেন, সরকারি প্রকল্পে ব্যয় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নিরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত। ফলে সেই আলোচনাকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal