Breaking News

বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএফে বড় বদল! কেন্দ্রীয় নিয়ম নয়, রাজ্যের আইনেই চলবে তহবিল পরিচালনা,বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিলে সংশোধন

নিজস্ব সংবাদদাতা :- রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) পরিচালনায় বড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার। শনিবার বিধানসভায় ‘বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ পেশ করে সরকার জানায়, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মচারীদের পিএফ আর কেন্দ্রীয় নিয়মে নয়, পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। একইসঙ্গে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, আগামী দিনে রাজ্যের আরও ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সংশোধনী আনা হবে।বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সময় আইন তৈরিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অনেক অংশ অনুসরণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পুরনো আইনের কিছু বিধান বর্তমান পরিস্থিতিতে নানা প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্যের পৃথক নিয়মের বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল।মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনার নিয়ম এক নয়। অথচ আইনের অসঙ্গতির কারণে রাজ্য সরকারের অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের পিএফ পরিচালনায় কেন্দ্রীয় কাঠামোর প্রভাব থেকে যাচ্ছিল। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে।প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালিত হবে পশ্চিমবঙ্গ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৮৩-এর অধীনে। পাশাপাশি ওই আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনার প্রয়োজনীয় বিধি তৈরির ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী পরিষদের হাতেই থাকবে।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, শুধু বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় নয়, আগামী দিনে রাজ্যের আরও ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সংশোধনী আনা হবে। তাঁর কথায়, “রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রভিডেন্ট ফান্ড কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই নীতি রাজ্য সরকারই নির্ধারণ করবে।”এ প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগের সরকার এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেয়নি। যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই ত্রুটি সংশোধন করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে একরূপ, স্বচ্ছ এবং সুশৃঙ্খল প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
সরকারের দাবি, এই সংশোধনী কার্যকর হলে প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনায় আইনি স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক একরূপতা নিশ্চিত হবে এবং কর্মচারীদের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে। বিধানসভার অনুমোদনের পর সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে সংশোধিত আইন কার্যকর হবে। একইসঙ্গে পঞ্চায়েত আইনেও একাধিক সংশোধনী আনার প্রস্তুতি চলছে বলে সরকার জানিয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *