Breaking News

দিল্লির কনট প্লেসে স্থায়ী কার্যালয়, জাতীয় রাজনীতিতে শক্তি বাড়াতে মরিয়া ঋতব্রতেরা! জোড়াফুল দখলের লড়াইয়ের মাঝেই বড় পদক্ষেপ

নিজস্ব সংবাদদাতা :-রাজ্য রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে এবার জাতীয় স্তরে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার প্রস্তুতি শুরু করেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসের আগেই রাজধানী দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসে স্থায়ী দলীয় কার্যালয় চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে ঋতব্রত শিবির। দলীয় সূত্রের দাবি, অফিসের জায়গা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে এবং প্রস্তুতির কাজও দ্রুত এগোচ্ছে।রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলে ভাঙনের সূত্রপাত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে পৃথক শিবির গড়ে তোলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরু থেকেই তাঁর দাবি, তাঁরাই প্রকৃত বা ‘আসল’ তৃণমূল, এবং সেই লক্ষ্যেই সাংগঠনিক বিস্তারের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামোতেও একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে দিল্লিতে স্থায়ী দলীয় কার্যালয়ের অভাব ছিল। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ থাকাকালীন তাঁর সরকারি বাংলো থেকেই দিল্লিতে দলীয় কাজ পরিচালিত হত। পরে মুকুল রায়ের ১৮১ সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাংলো এবং পরবর্তীতে রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের সরকারি বাসভবনই কার্যত তৃণমূলের দিল্লির অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। মাঝখানে সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বাসভবন থেকেও দলীয় কাজ চললেও, তিনি দলত্যাগ করার পর সেই ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে যায়।এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে নিজেদের একটি স্থায়ী ও স্বতন্ত্র দলীয় কার্যালয় গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঋতব্রত শিবির। সূত্রের খবর, কনট প্লেসে অফিসের জায়গা চূড়ান্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজও চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের আগেই নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হতে পারে।এ প্রসঙ্গে ঋতব্রত-তৃণমূলের চেয়ারম্যান অরূপ বলেন, “দিল্লিতে আমাদের একটি পার্টি অফিস নেওয়া হয়েছে। তবে উদ্বোধনের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। খুব শীঘ্রই তা ঘোষণা করা হবে।”
অন্যদিকে, দলীয় নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’-এর দাবিতে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে ঋতব্রত শিবির। আইনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই তারা দলীয় নাম ও প্রতীক নিজেদের দাবি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সেই লড়াই চলাকালীনই দিল্লিতে স্থায়ী কার্যালয় খোলার উদ্যোগকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।তবে ঋতব্রত শিবিরের এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করেছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপির স্তাবক হয়ে অনেক কিছু করা যায়। ঋতব্রত আসলে শুভেন্দুর আর একটি মুখ। ওরা তৃণমূল কংগ্রেস নয়।” দিল্লিতে অফিস খোলাকে ঘিরে দুই শিবিরের রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *