Breaking News

বামেদের ‘নৈরাজ্যের’ অভিযোগে কলকাতায় জোড়া তেরঙ্গা যাত্রা বিজেপির, জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে কড়া বার্তা গেরুয়া শিবিরের!

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-শহরে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির সাম্প্রতিক আন্দোলন ও অশান্তির আবহে সোমবার কলকাতায় জোড়া মিছিল করল বিজেপি। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ‘নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে’ সরব হওয়ার পাশাপাশি বামেদের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিযোগ তোলে গেরুয়া শিবির। তবে গত শুক্রবারের মতো এদিনের কর্মসূচিতে কোথাও অশান্তির ছবি দেখা যায়নি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এই কর্মসূচিকে ‘তেরঙ্গা যাত্রা’ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কারণে মিছিলে বিজেপির দলীয় পতাকার বদলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। পাশাপাশি হনুমানের ছবি-সংবলিত গেরুয়া পতাকাও দেখা যায়। বিজেপির দাবি, জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের ঐক্যের বার্তা দিতেই এই উদ্যোগ।নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার প্রসঙ্গও উঠে আসে এদিনের মিছিলে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্ত করে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছিল। সেই পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থে এবং নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
মিছিলে উপস্থিত রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করেননি, কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধান মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন। গণতন্ত্রে নৈতিক দায় স্বীকার করার সংস্কৃতিই গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের বর্তমান সরকারকেও কটাক্ষ করা হয়।অন্যদিকে বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষ শুক্রবারের অশান্তির ঘটনায় কড়া অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, “১৬ জনকে গ্রেফতার করলে হবে না, আরও অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। যারা অশান্তি ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হওয়া উচিত।”
শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা এবং গোলপার্ক থেকে যাদবপুর— শহরের দুই প্রান্তেই এদিন ‘তেরঙ্গা যাত্রা’ বের করে বিজেপি। কর্মসূচিতে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ‘ককরোচ’ বিরোধী স্লোগান এবং হাতে কীটনাশকের স্প্রে বোতলও দেখা যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা শিয়ালদহ-ধর্মতলা মিছিলের পর ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের উপর হামলা, ইট ও বোতল ছোড়া এবং সাংবাদিকদের হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *