প্রসেনজিৎ ধর :- দীর্ঘ সাত বছরের আইনি লড়াইয়ের পর ব্যান্ডেল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা দিলীপ রাম খুন মামলায় সাত জনকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। তৃতীয় দায়রা আদালতের বিচারক কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় মঙ্গলবার এই রায় দেন। দোষীদের সাজা ঘোষণা করা হবে বুধবার। তবে মামলার মূল অভিযুক্ত শকুন্তলা যাদব ওরফে সমুন্দ্রি এবং তাঁর এক ছেলে এখনও পলাতক।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই পরিকল্পিতভাবে দিলীপ রামকে খুনের ছক কষা হয়েছিল। অভিযোগ, সমুন্দ্রি যাদব প্রায় তিন লক্ষ টাকার সুপারি দিয়ে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেছিলেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৯ জুন সকালে ব্যান্ডেল স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ওঠার মুখে খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয় দিলীপকে। আততায়ীরা পালানোর সময় শূন্যে গুলিও চালায় বলে তদন্তে জানা যায়।প্রথমে ব্যান্ডেল জিআরপি তদন্ত শুরু করলেও পরে মামলাটি চুঁচুড়া থানার হাতে যায়। তদন্তে জমি বিবাদের সূত্র ধরে সমুন্দ্রি যাদবের নাম উঠে আসে। এরপর একে একে মঙ্গল যাদব-সহ একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের জেরায় নাগপুর থেকে আকবর নামে আরও এক অভিযুক্তকে ধরা হয়। পরে গ্রেফতার হন আরও কয়েক জন।
আদালত যে সাত জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে, তারা হল— মহম্মদ নাসিম ওরফে গুড্ডু, মহম্মদ মানু, মহম্মদ সানু, সাদ্দাম হোসেন, মঙ্গল যাদব, বৈজনাথ রায় ওরফে হেডেক এবং মহম্মদ আকবর। তদন্তকারী অফিসার মোট ন’জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছিলেন।
সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, মামলায় মোট ৩৯ জন সাক্ষীর বয়ান গ্রহণ করা হয়েছে। যে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়েছিল, তা গুড্ডুর কাছ থেকে উদ্ধার হয় এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় সেই অস্ত্র দিয়েই খুনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া চার জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যও আদালতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্ত্রী তথা ব্যান্ডেল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ঋতু সিংহ। তিনি বলেন, পুলিশ ও সরকারি আইনজীবীর ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে এখনও পলাতক মূল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal