দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- রাজ্যে কোনও শিশুই যাতে আর্থিক অনটন, পারিবারিক সমস্যা কিংবা এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে স্থানান্তরের কারণে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়, সেই লক্ষ্যেই বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য শিক্ষা দফতর। স্কুলছুট বা ড্রপ-আউট সমস্যা দূর করতে বৃহস্পতিবার কলকাতার বিকাশ ভবনে রাজ্য সরকারের সমগ্র শিক্ষা মিশন এবং জাতীয় মুক্ত বিদ্যালয় সংস্থান (NIOS)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তান-সহ বিভিন্ন কারণে নিয়মিত স্কুলে যেতে না পারা শিক্ষার্থীরাও সহজেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিদ্যালয় শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি এবং শিক্ষার অধিকার আইনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল দেশের কোনও শিশুকে যেন শিক্ষার মূল স্রোত থেকে ছিটকে যেতে না হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, আর্থিক অনটন, পারিবারিক সমস্যা, কর্মসূত্রে অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া কিংবা অন্যান্য সামাজিক কারণে বহু পড়ুয়ার পড়াশোনা মাঝপথে থেমে যায়। নতুন এই উদ্যোগ সেই সমস্যারই স্থায়ী সমাধান দিতে পারে।মন্ত্রী জানান, কোনও শিক্ষার্থী যদি একটি রাজ্যে NIOS-এ নাম নথিভুক্ত করে, পরে পরিবারের সঙ্গে অন্য রাজ্যে চলে যায়, তাহলেও তার পড়াশোনায় কোনও বাধা তৈরি হবে না। সে নতুন রাজ্যের নির্ধারিত পরীক্ষাকেন্দ্রে বসেই নিজের মাতৃভাষায় পরীক্ষা দিতে পারবে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে শিক্ষা চালিয়ে যেতে পারবে। এর ফলে পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছে শিক্ষা দফতর।এদিন শিক্ষাক্ষেত্রে আরও একটি বড় ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যের স্কুলের পাঠ্যক্রমে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। ইতিমধ্যেই সিলেবাস পুনর্বিবেচনার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ধাপে ধাপে সংশোধিত পাঠ্যক্রম চালু হবে। নতুন বইতেও থাকবে একাধিক পরিবর্তন।দীপক বর্মণ বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের কথা মাথায় রেখেই নতুন সিলেবাস তৈরি করা হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, বাস্তবমুখী ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। ২০২৭ সালে সংশোধিত বই প্রকাশ করা হবে এবং ২০২৮ সালে জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রথম শ্রেণি থেকে নতুন পাঠ্যক্রম কার্যকর করা হবে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই চূড়ান্ত সিলেবাস তৈরি হবে।
এর পাশাপাশি স্কুল শিক্ষায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। স্কুল ইউনিফর্ম থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব বাংলা লোগো। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের নির্দিষ্ট নীল রঙের বাধ্যবাধকতাও থাকছে না। এবার প্রতিটি স্কুল তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পছন্দ অনুযায়ী ইউনিফর্মের রং নির্ধারণ করতে পারবে।শিক্ষা দফতরের দাবি, স্কুলছুট রোধ, পরিযায়ী পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal